পুনে: বিরল স্নায়ু রোগ গুলেন-বেরি সিন্ড্রোমে (জিবিএস) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে মহারাষ্ট্রের পুনেতে। শুধু তাই নয়, আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি জিবিএস আক্রান্ত ছিলেন। মহারাষ্ট্রে এটাই প্রথম জিবিএস আক্রান্তের মৃত্যু বলে অনুমান স্বাস্থ্যদপ্তরের। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১০১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে ৬৮ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন মহিলা। এঁদের মধ্যে ১৬ জনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
Advertisement
সোলাপুরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি সম্প্রতি পুনে আসেন। এখানেই তিনি জিবিএস আক্রান্ত হন বলে সন্দেহ। রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। সোলাপুর গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের ডিন সঞ্জীব ঠাকুর বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি শ্বাসকষ্ট, শরীরের নীচের অংশ অসাড় এবং ডায়েরিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে সোলাপুরের একটি বেসরকারি হসাপাতালে ভর্তি হন এক ব্যক্তি। রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সোলাপুর সরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। সঞ্জীব ঠাকুর জানিয়েছেন, জিবিএসেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (এনআইভি) মৃতের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে । ক্লিনিক্যাল অটপসির রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ ইতিমধ্যে পুনেতে এসে পৌঁছেছেন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। কীভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে আতান্তরে প্রশাসন। এই অবস্থায় নানদেড় গ্রামের একটি কূপের অবস্থা খতিয়ে দেখেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ আবিতকর। এই কূপের জলই আক্রান্ত এলাকায় সরবরাহ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, এই কূপের জল পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তর এবং পুনে পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। এই রোগের চিকিৎসাকে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্প মহাত্মা ফুলে হেল্থ স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রকল্পে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা মেলে। জিবিএস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য কমলা নেহরু হাসপাতালে ৪৫টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।



