Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দায়িত্বশীল অর্থব্যবস্থার জোরেই কমছে রাজস্ব ঘাটতি: অমিত মিত্র

গত ১৫ বছরে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে ১৮ গুণ। তার ফলে বেড়েছে সাধারণ মানুষের হাতে নগদের জোগান।

দায়িত্বশীল অর্থব্যবস্থার জোরেই কমছে রাজস্ব ঘাটতি: অমিত মিত্র
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ১৫ বছরে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে ১৮ গুণ। তার ফলে বেড়েছে সাধারণ মানুষের হাতে নগদের জোগান। আগামী অর্থবর্ষেও (২০২৬-২৭) এই খাতে খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। এই সূত্রে রাজ্যের জিএসটি বাবদ আয়ও বৃদ্ধি পাবে। মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ, বর্তমান জিএসটি আইনে যে রাজ্যের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেশি, সেই রাজ্যের জিএসটি আদায়ও বেশি হবে। আর সেই কারণেই আগামী অর্থবর্ষে রাজ্যে ৫৬ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা জিএসটি বাবদ আয় হবে। ধরা হয়েছে রাজ্যের বৃহস্পতিবারের অন্তর্বর্তী বাজেটে। চলতি অর্থবর্ষে অঙ্কটা ৫৩ হাজার ৮২৯ কোটিতে পৌঁছাবে বলেই ধরেছে রাজ্য (রিভাইসড এস্টিমেট)।

Advertisement

মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বৃদ্ধির সঙ্গে জমি বাড়ি বিক্রি বাবদ স্ট্যাম্প ডিউটি আদায়সহ অন্যান্য রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। মত প্রশাসনিক মহলের। ফলে আরো বাড়বে রাজ্যের নিজস্ব কর বাবদ আদায়।

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে এখনো পর্যন্ত বাংলার নিজস্ব কর বাবদ আয় বৃদ্ধি হয়েছে ৫.৬২ গুণ। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে যা হবে ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অঙ্কটা ২০১০-১২ সালে ছিল মাত্র ২১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। ওইসঙ্গে রাজ্যের রাজস্ব এবং আর্থিক ঘাটতিও আগামী অর্থবর্ষে তুলনামূলকভাবে কমতে চলেছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও কীভাবে সম্ভব হচ্ছে রাজ্যের এই আর্থিক অগ্রগতি? এই প্রশ্নের জবাবে, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের আর্থিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র জানান, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল অর্থব্যবস্থার জোরেই আজ বাংলা এই উচ্চতায় পৌঁছাতে সফল হচ্ছে। মোট বাজেটের তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি কোনো তুলনাতেই আসে না। অথচ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ঘাটতি ৪.৪ শতাংশ।

অমিতবাবু আরো বলেন, ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই টাকা মানুষের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করছি। এদিনের বাজেটে প্রদত্ত হিসেব অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষে রাজ্যের মোট ঋণ ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯১ কোটিতে গিয়ে পৌঁছাবে বলে ধরা হয়েছে। এটা চলতি অর্থবর্ষের শেষে ৭ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩২৬ কোটিতে গিয়ে ঠেকবে বলেই ধরা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ঋণ পরিশোধ করতে আগামী অর্থবর্ষে প্রয়োজন পড়বে ৯৭ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা।

তবে সবথেকে উল্লেখ্য বিষয় হল, ২০১০-১১ সালের তুলনায় মোট বাজেট বৃদ্ধি হয়েছে ৪.৭৯ গুণ। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি এবং পরিকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এদিন অমিতবাবু জানান, পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে ৯.৮৪ গুণ। অর্থাৎ, ২০১০-১১ সাগল যেখানে পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে খরচ হত মাত্র ১,৭৫৯ কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩১৬ কোটি টাকায়। কৃষি এবং কৃষি পরিষেবা ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়েছে ১২.৮৪ গুণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ