নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এক বছরের ব্যবধানে বীরভূম জেলা প্রশাসনের আয় বেড়ে দাঁড়াল ২৫২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জেলা প্রশাসনের মোট আয় ১৩৪০ কোটি টাকা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আয়ের অঙ্ক ছিল ১০৮৮ কোটি টাকা। জেলা প্রশাসন প্রদত্ত তথ্য অনুসারে এক বছরের ব্যবধানে শতকরা ২৩.১৬ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কর্তারা যথেষ্টই উচ্ছ্বসিত। আগামী অর্থবর্ষে আয়ের অঙ্ক আরও বাড়াতে তৎপর জেলা প্রশাসনের কর্তারা। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বছরভর বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়ে থাকে। সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের আধিকারিক সহ কর্মীদের মিলিত প্রয়াসেই এই সফলতা এসেছে। এই আয় আরও বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা পথ চলা শুরু করেছি।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, সার্বিক আয়ের নিরিখে আবগারি দপ্তরে যথেষ্টই এগিয়ে রয়েছে। বিগত অর্থবর্ষের তুলনায় ১৮.০৪ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আবগারি দপ্তরের আয় ছিল ৬১৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই দপ্তরের আয় বেড়েছে ১১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট আয় ৭২৬ কোটি টাকা। বলাবাহুল্য, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের তুলনায় আবগারি দপ্তরের আয়ের অঙ্ক নজর কেড়েছে। এরপরেই ধাপে ধাপে ভূমি, রেজিস্ট্রেশন ও পরিবহণ দপ্তর রয়েছে। বিগত বছরে ভূমিদপ্তর ২৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৩৭.৩৩ শতাংশ। এরপরই রয়েছে রেজিষ্ট্রেশন। বিগত বছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১২৬ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৩৪.৯২ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট ১৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সবশেষে রয়েছে পরিবহণ দপ্তর। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৮.৭৭ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অর্থবর্ষে মোট আয় হয়েছে ১২৪ কোটি টাকা। বিগত বছরে আয়ের অঙ্ক ছিল ১১৪ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের নিরিখে প্রতিটি দপ্তরেরই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসন প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, রাজস্ব আদায়ের নিরিখে ভূমিদপ্তর এগিয়ে রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এই দপ্তরের আয় বেড়েছে ৩৭.৩৩ শতাংশ। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে বালিঘাট থেকে আদায়কৃত রাজস্ব জেলা প্রশাসনের খাতে যুক্ত হয় না। তাঁর দাবি, বালিঘাট থেকে আদায়কৃত রাজস্বের অঙ্ক জেলা প্রশাসনের খাতে যুক্ত হলে বাৎসরিক আয়ের অঙ্ক আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেত।