


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বিজেপি বাংলাকে ক্রমাগত বঞ্চনা ও অপমান করে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে কখনও রোহিঙ্গা, কখনও বাংলাদেশি তকমা দিয়েছে তারা। বারবার মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোগান্তির মুখে ফেলেছে। বিজেপির এই ‘অত্যাচার’-এর পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে ভোটবাক্সে! আগামী বুধবার রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার এই অন্যায়ের ‘প্রতিশোধ’ নেবে। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘২৯ এপ্রিল প্রতিশোধের ভোট দেখবে বাংলা।’
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে শেষ শনিবার সকাল থেকে একের পর এক কর্মসূচি করেন তৃণমূল সেনাপতি। একাধিক সভা থেকে তিনি ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলও জানিয়ে দেন। তাঁর দাবি, ‘২৯ তারিখ তৃণমূল ডবল সেঞ্চুরি পার করবে। সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে থামবে, জানি না। ভোটের চারদিন আগে বলে যাচ্ছি, ছিল তৃণমূল, আছে তৃণমূল, থাকবে তৃণমূল। বিজেপিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
এদিন প্রথমে বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদলের সমর্থনে সেখানে জনসভা করেন অভিষেক। তারপর ভাঙড়ের প্রার্থী শওকত মোল্লা এবং ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী বাহারুল ইসলামের সমর্থনে ভাঙড়ে সভা করেন। তারপর প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রের সমর্থনে বালিতে কর্মসূচি করেন তিনি। এছাড়াও মানিকতলা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের সমর্থনে রোড-শো করেন। প্রতিটি কর্মসূচিতেই অভিষেক জয় নিয়ে প্রত্যয়ী বার্তা দেন। বলেন, ‘এবার দিল্লি, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশের নেতারা বাংলার মানুষের ক্ষমতা বুঝতে পারবেন। মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছে বিজেপি। এই ভোটে ওরা এমন শিক্ষা পাবে যে পরবর্তী সময়ে মানুষের সঙ্গে বেইমানি করার আগে ১০০ বার ভাববে।’ অভিষেক যখন এই দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছেন, তখন বারবার হাততালি ও স্লোগানে গমগম করে উঠেছে সভাস্থল।
সাধারণ মানুষের এই আশীর্বাদকে পুঁজি করে অভিষেক আরও বলেন, ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর এলাকা অশান্ত করাই হল বিজেপির অ্যাজেন্ডা। তাই আবেদন করব, ওদের আর সুযোগ দেবেন না। যে বিজেপি মানুষকে ভাঁওতা দিয়েছে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মানুষ তাদের এমন জবাব দেবে যে ওদের পতাকা ধরার লোক পাওয়া যাবে না।’ কথায় আছে, ‘স্যাকরার ঠুকঠাক, কামারের এক ঘা’। এই প্রবাদের প্রসঙ্গে টেনে তৃণমূল সেনাপতির দাবি, ‘সব প্রতিশোধ নেওয়া হবে ২৯ তারিখের ভোটে। ইভিএমে তৃণমূলের পক্ষে বোতাম এমনভাবে টিপবেন, বহিরাগতরা বাংলায় আর আসার নাম ধরবে না।’
গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে কমিশন। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সহ বিভিন্ন রাজ্যের তাবড় বিজেপি নেতারা বাংলায় কার্যত ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারি’ চালাচ্ছেন। অযোধ্যা প্রসঙ্গ এনে বিজেপির ‘হিন্দুত্বের জিগির’-কে নস্যাৎ করে অভিষেকের তোপ, ‘ওরা রামের নামে রাজনীতি করে। কিন্তু লোকসভা ভোটে খোদ অযোধ্যায় ওরা হেরেছে। তাই বাংলার মানুষের কাছে আবেদন, ধর্মের নামে যারা রাজনীতি করে, তাদের সুযোগ দেবেন না। আমরা রাজনীতি করি কর্মের মাধ্যমে। আমাদের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড দেখে ভোট দিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার পাড়া, আমার এলাকা, আমার গ্রাম, আমার শহরে এসে বিজেপি নেতা বলছেন, উলটো করে ঝুলিয়ে দেব! ওঁদের বলব, এই মাটিতে ওঁদের এমন শিক্ষা দেব যে পরের বার বাংলায় এসে এই কথাগুলো বলার আগে ভাবতে হবে।’