Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্ধকার জগৎ থেকে প্রত্যাবর্তন মাধ্যমিকে সফল খড়গ্রামের ৪ ছাত্রী

জীবনের একটা সময়ে অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল ওরা। কেউ পাচারের শিকার হয়েছে। আবার কারও দিন কেটেছে যৌনকর্মীদের পল্লিতে। কেউ আবার পিতৃপরিচয়হীন সন্তান।

অন্ধকার জগৎ থেকে প্রত্যাবর্তন মাধ্যমিকে সফল খড়গ্রামের ৪ ছাত্রী
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: জীবনের একটা সময়ে অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল ওরা। কেউ পাচারের শিকার হয়েছে। আবার কারও দিন কেটেছে যৌনকর্মীদের পল্লিতে। কেউ আবার পিতৃপরিচয়হীন সন্তান। এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইচ্ছেশক্তির জোরে মাধ্যমিকে সাফল্য পেল চার ছাত্রী। খড়গ্রামে একটি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোমের ওই আবাসিকাদের সাফল্য বাকিদেরও উৎসাহিত করছে। ওই ছাত্রীদের একজন ছ’টি বিষয়ে লেটার মার্কসও পেয়েছে।

Advertisement

খড়গ্রামের ওই হোমে প্রায় ৪০জন আবাসিক মহিলা রয়েছে। তাদের বেশিরভাগ হয় পাচার হয়ে গিয়েছিল, অথবা ছোটোবেলা যৌনকর্মীদের পল্লিতে কেটেছে। কেউ ১০বছর, কেউ বা তারও বেশি সময় ধরে হোমে রয়েছে। তারা সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তার প্রমাণ মিলেছে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষাতেই।
২০২০সালে করোনাকালে এক নাবালিকা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই হোমে আসে। কলকাতার একটি যৌনকর্মীদের পল্লিতে তার ছোটবেলা কেটেছে। সেখানে ওই নাবালিকা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে। মা ও মেয়ে একটি ঝুপড়িতে থাকত। একদিন আগুনে সেই ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর খড়গ্রামের হোমে তার ঠাঁই হয়। কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভরতি করে। এরপর শুরু হয় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই। এবছর মাধ্যমিকে বসে ৫২৪নম্বর পেয়েছে সে। ছ’টি বিষয়ে লেটার মার্কস রয়েছে। ওই ছাত্রী জানাল, সে আগামী দিনে সরকারি আধিকারিক হওয়ার পাশাপাশি সমাজে অবহেলিত মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে চায়।
ওই হোমের আরও এক নাবালিকা এবছর মাধ্যমিকে ৪৩১নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। পিতৃপরিচয়হীন এই নাবালিকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার সন্তান। রাস্তাতেই তাকে প্রসব করে ওই মহিলা। ছ’বছর বয়সে এই হোমে এসে তার জীবনসংগ্রাম শুরু হয়েছিল।
বাকি দুই নাবালিকার জীবনকাহিনিও খুবই করুণ। একজন ছোটবেলায় ট্রেনে ভিক্ষা করে নিজের রোজগার অন্যদের হাতে তুলে দিত। সেসময় বারবার যৌন লালসার শিকার হতে হয়েছে। ২০১৫সালে এই হোমে ঠাঁই হয়। লেখাপড়ার জগতে ফিরে এবছর মাধ্যমিকে ২১৮ পেয়েছে সে।
অপর নাবালিকা বাড়ি থেকে পালানোর পর বারবার হাতবদল হয়ে অন্ধকার জগতের কুঠুরিতে ঠাঁই হয়েছিল। একসময় লেখাপড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মাঝে কয়েকবছর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ২০২৪সালে সারা শরীরে কালসিটে দাগ নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় এই হোমে ঠাঁই হয়। এবছর মাধ্যমিকে ২২০নম্বর পেয়ে সে উত্তীর্ণ হল।
হোমের সুপার মিঠু মণ্ডল বলেন, ওদের লড়াই হোমের নাম উজ্জ্বল করেছে। শুধু তাই নয়, হোমের বাকি আবাসিকদেরও উৎসাহ জুগিয়েছে। এরা দেখিয়েছে, মনের অদম্য ইচ্ছাশক্তির সাহায্যে কীভাবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাফল্যের মুখ দেখা যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ