


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালি ব্লক জুড়ে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। রাতারাতি বদল হয়ে যাচ্ছে জমির চরিত্র। কোটি কোটি টাকার এই ব্যবসা-চক্রের দাপটে অসহায় সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যেই ধনেখালির বিভিন্ন জায়গায় মাটিবাহী ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। কিন্তু নির্বিকার প্রশাসন। তবে প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুলছে ধনেখালির সাধারণ মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, রোজ সন্ধ্যার পরই কাজ চলছে এই চক্রের মাধ্যমে। প্রশাসনকে সব জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনও।
ধনেখালি ব্লকের ১৮টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫টি পঞ্চায়েত তারকেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত। বাকিগুলি পড়েছে ধনেখালি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। এই দুই বিধানসভার মধ্যেই ছড়িয়ে রয়েছে এই চক্র। সম্প্রতি দশঘড়া -১ পঞ্চায়েতের বহরমপুর ভবলদিঘি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়ে প্রশাসনের দপ্তরে। ধনেখালি শ্রীপতিপুর মৌজায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। ধনেখালি ঘনরাজপুরে হাঁড়িপাড়া এলাকায় সরকারি জায়গার একাংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। চাষের জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে ধনেখালির বোসো ভগবানপুরেও। এছাড়া দশঘড়ার একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভাণ্ডারহাটিতে একটি ইটভাটার রাবিশ দিয়ে একটি বিতর্কিত জমি ভরাট করা হচ্ছে। বিতর্কিত জায়গাটিতে আদালতের নোটিস অমান্য করেই চলছে এই ভরাটের কাজ। ধনেখালির পাড়াম্বুয়া তেমাথা কালীতলার পিছনে অনুমোদন ছাড়া মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। দশঘড়া পঞ্চাননতলায় অনুমোদনের অতিরিক্ত মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রান্তে। কোনটা নিয়ম মেনে আর কোনটা নিয়ম বহির্ভূতভাবে হচ্ছে, তা দেখার দায়িত্ব কার? প্রশ্ন তুলেছে এলাকার মানুষ।
সম্প্রতি মাটির ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। ধনেখালি সরমপাড়ায় ২৫ মার্চ মৃত্যু হয় ট্রাক্টরের চালক নাড়ুগোপাল টুডুর (৪০)। এছাড়া ১১ এপ্রিল গঙ্গেশনগরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু হয় হারু সাধুখাঁ (৪৩) নামে এক ব্যক্তির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ধনেখালিতে সূর্যের আলো ডুবলেই শুরু হয় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। আসলে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিসকর্মী। তাঁর মধ্যস্থতায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলির নিচুতলাকে নিয়ন্ত্রণ করে মাটি মাফিয়ারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিস ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে চলছে এই কাজ।
ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র এই প্রসঙ্গে জানান, মাটি কাটার বিষয়টি ভূমিদপ্তর দেখে। তাই বিষয়টি ওই দপ্তরকে জানানো হচ্ছে। সব খতিয়ে দেখে ভূমিদপ্তরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নিজস্ব চিত্র