Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

প্রত্যাঘাত যে কোনও সময়, ব্রহ্মস মহড়ায় কড়া হুঁশিয়ারি নৌবাহিনীর

পহেলগাঁও হামলার ‘প্রত্যাঘাতে’ প্রস্তুত ভারত! সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা এবং এবার নৌবাহিনী। বার্তা স্পষ্ট। টার্গেট একটাই—পাকিস্তান।

প্রত্যাঘাত যে কোনও সময়, ব্রহ্মস মহড়ায় কড়া হুঁশিয়ারি নৌবাহিনীর
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার ‘প্রত্যাঘাতে’ প্রস্তুত ভারত! সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা এবং এবার নৌবাহিনী। বার্তা স্পষ্ট। টার্গেট একটাই—পাকিস্তান। রবিবার ভোরে আরব সাগরে নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ মহড়া দিয়েছে। একাধিক রণতরী থেকে ছোড়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। সবচেয়ে বড় কথা, মহড়ায় ছিল ‘ব্রহ্মস’ও। ৮০০ কিমি রেঞ্জের সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। আরব সাগরে ভারতীয় জলসীমা থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে নিশানায় চলে আসবে খাস ইসলামাবাদও। নৌসেনা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায়, যে কোনওভাবে।’ অর্থাৎ মানেটা পরিষ্কার, সর্বোচ্চ স্তর থেকে সিগন্যাল এলেই রণতরী থেকে উড়ে যাবে মিসাইল। আঘাত হানবে ‘কাঙ্ক্ষিত’ লক্ষ্যে। আর সামরিক বিভাগ থেকে এই বার্তা আসার পরই ফের হুঙ্কার শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে। ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করলেন, ‘ফুঁসছে দেশবাসী। ক্ষোভে আমাদের রক্ত ফুটছে। স্বজন যাঁরা হারিয়েছেন, তাঁদের কান্না বিফলে যাবে না।’

Advertisement

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণে আচমকা জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নিরীহ, নিরস্ত্র নাগররিকরা। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার কথা ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছে মোদি সরকার। কেন এই গাফিলতি? তা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্নও তুলছে। তবে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার ব্যপারে দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকেই একমত। পাল্টা বদলা নিক ভারত, চায় আম জনতাও। তারই সুর টেনে প্রধানমন্ত্রী রবিবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, কাশ্মীরকে জঙ্গিরা যেভাবে অশান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা আর মেনে নেবে না ভারত সরকার। পহেলগাঁও হামলায় স্বজনহারাদের কান্না ব্যর্থ যাবে না। ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘ওইদিন কাছের মানুষকে যাঁরা হারিয়েছেন, ন্যায় তাঁরা পাবেনই। ন্যায়বিচার দিয়েই ছাড়ব। সন্ত্রাসবাদের প্রত্যাঘাত হবে। জঙ্গি এবং সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’ মোদির কথায়, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের একতাই আমাদের শক্তি। গোটা বিশ্ব দেখছে, এই হামলার পর পুরো দেশ এক সুরে কথা বলছে। ভারতীয়দের মনে যে আক্রোশ জন্ম নিয়েছে, তা গোটা দুনিয়ারও আছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব আমাদের পাশে।’ মোদি বলেন, ‘কাশ্মীরে শান্তি ফিরছিল, স্কুল-কলেজ খুলছিল, গণতন্ত্র মজবুত হচ্ছিল। পর্যটকদের ভিড় বাড়ছিল। দেশ আর জম্মু-কাশ্মীরের শত্রুদের এসব সহ্য হয়নি। তাই আতঙ্ক ছড়িয়ে কাশ্মীরকে আবার অশান্ত করে তুলতে চায় ওরা। কাপুরুষ।’ মোদির চ্যালেঞ্জ, ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আমরাও সংকল্পবদ্ধ। কড়া জবাব মিলবে।’ 
তৎপরতা শুরু হয়েছে দিল্লিতেও। আর সেইসঙ্গে প্রশ্ন—কবে হবে প্রত্যাঘাত? প্রধানমন্ত্রী কী ভাবছেন? বিদেশ থেকে ফিরে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রথমেই কাশ্মীরে পৌঁছে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও গিয়েছেন। যদিও মোদি এখনও কাশ্মীরমুখো হননি। উল্টে এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিহার-যাত্রা নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না। দিল্লির দরবারে এবার শোনা যাচ্ছে, কাশ্মীর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী শ্রীনগর এবং পহেলগাঁও যেতে পারেন। তাহলে মোদির সরেজমিন সফরের পরেই কি...? কৌতূহল তুঙ্গে।

সম্পর্কিত সংবাদ