নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বাম জমানায় দুষ্কৃতী রাজে অতিষ্ঠ ছিলেন দমদম বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা। পালাবদলের পর পাল্টে গিয়েছিল দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যের পরিচিত মিথ। কুখ্যাত গ্যাংস্টারদের বড় অংশ গ্রেপ্তার হওয়ায় শান্তি ফিরেছিল এলাকায়। সেই শান্ত দমদমে কি দুষ্কৃতীরাজ ফেরানোর চেষ্টা চলছে? দাবি মতো তোলা না পেয়ে বিশ্বকর্মা পুজোর সন্ধ্যায় দমদম স্টেশন লাগোয়া এক রেস্তরাঁয় হামলার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে নাগেরবাজার থানার পুলিশ কুখ্যাত ‘হিস্ট্রি শিটার’ সুভাষ দাস ওরফে বড়ো পকাইকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ দমদম রোডের ওই রেস্তরাঁয় হামলার ঘটনা ঘটে। মালিক সন্দীপ দত্তের অভিযোগ, কুখ্যাত দুষ্কৃতী বড়ো পকাই কয়েক দিন ধরে তোলা চাইছিল। তিনি তা না দেওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা নাগাদ দলবল নিয়ে তাঁর রেস্তরাঁয় হামলা চালায় ওই দুষ্কৃতী। কর্মীদের মারধরের পাশাপাশি গায়ে গরম তেল ছিটিয়ে দেওয়া হয়। ক্যাশ বাক্সে থাকা ৩০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি দোকান লণ্ডভণ্ড করে তারা চম্পট দেয়। পুলিশ তদন্তে নেমে রাতেই বড়ো পকাইকে গ্রেপ্তার করে। কে এই বড়ো পকাই? বাম জমানায় দমদমের অন্ধকার জগতের পুরাতন খেলোয়াড় বড়ো পকাই। অভি ও ল্যাঠা পাপ্পু নামের দু’জনকে খুনের কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত। এছাড়াও একাধিক খুন, ডাকাতির কেসের আসামি। তার বাড়ি দক্ষিণ দমদমের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্বামীজি নগর, বহিরাগত কলোনি। বাম জমানায় সে মধুগড়ের কুখ্যাত দুষ্কৃতী দীপকের সঙ্গে একই টিমে কাজ করত। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে খোলসের মধ্যে ঢুকে যায়। বছর তিনেক আগে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক নামকরা প্রোমোটারকে তোলাবাজির জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর পুলিশ তাকে গাঁজা কেসে গ্রেপ্তার করেছিল। চলতি বছরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের উৎপাত শুরু। নিজের এলাকা ছাড়াও পাশের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে শেঠবাগান জলের দোকান এলাকা ছাড়াও আশপাশের এলাকায় প্রোমোটারদের হুমকি, সিন্ডিকেটের দখলদারি নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছিল।
স্থানীয়দের দাবি, দমদমের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলারের ছত্রছায়ায় তার দাপট শুরু হয়েছে। ওই প্রভাবশালীর প্রয়োজনমাফিক বাছাই করা প্রোমোটারদের হুমকি ও তোলাবাজি শুরু করেছিল। এই প্রভাবশালীর সঙ্গে ছবিও ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বরুণ নন্দী বলেন, আমার ওয়ার্ডে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছিল। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মুনমুন চট্টোপাধ্যায় বলেন, কোনও গুন্ডাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। দক্ষিণ দমদম শহর তৃণমূল সভাপতি (দমদম বিধানসভা) রাজু সেনশর্মা বলেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।