বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: কল্যাণী এইমসের ২৬০০ বর্গমিটার বা ২৮ হাজার বর্গফুট সরকারি জমি বিনা টেন্ডারেই তুলে দেওয়া হল গুজরাতের একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে। রোগীর বাড়ির লোকজনের থাকবার জায়গা বা ‘বিশ্রামগৃহ’ তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে তাদের। কোম্পানি আইনের ৮ ধারায় তারা ‘নন প্রফিট অর্গানাইজেশন’ বা ‘অলাভজনক সংস্থা’ হিসাবে নথিভুক্ত। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে তুমুল শোরগোল পড়েছে। আমেদাবাদের ওই বেসরকারি সংস্থাটি শুধু বিনা টেন্ডারেই দায়িত্ব পায়নি, আগামী ২৫ বছরের জন্য তাদেরই রক্ষণাবেক্ষণে থাকবে প্রস্তাবিত ওই ‘বিশ্রামগৃহ’! এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ কল্যাণী এইমসের সিনিয়র চিকিৎসক ও কর্মীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রোগীর বাড়ির লোকজনের থাকার জায়গা তৈরি করা তো ভালো কাজ। কিন্তু এইমসের মতো স্বশাসিত সংস্থার জায়গায় এই ধরনের ভবন বা বাড়ি তৈরির দায়িত্ব টেন্ডার ছাড়া দেওয়া যায় নাকি? তাও আবার এতগুলি বছরের জন্য? এ অনিয়ম ছাড়া আর কি? চিকিৎসক ও কর্মীদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী কোনো মস্তিষ্কের সুপারিশে এটি হয়েছে। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে আমেদাবাদের ওই সংস্থাটির জন্য দেশের আরও চারটি এইমসে (দেওঘর, ভোপাল, দিল্লি এবং নাগপুর) অবারিত দ্বার। আমেদাবাদের একটি সিভিল হাসপাতাল ও পিজিআই চণ্ডীগড়েও তারা কোনো জাদুমন্ত্রবলে কাজের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি মুম্বই, পুনে, নাগপুর সহ ছ’জায়গায় বিভিন্ন হাসপাতালে বিশ্রামগৃহ করার জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে সংস্থাটি। সেই চুক্তিতে ৪৯ বছরের জন্য তাদের কাজের বরাত দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে।



