অভিষেক পাল, জলঙ্গি: নোট বাতিল থেকে করোনার ভ্যাকসিন। হকের গ্যাস সিলিন্ডার, বা এসআইআর। নথি নিয়ে আম জনতাকে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে মোদি সরকার। এখন আবার বাদ যাওয়া ভোটারদের তালিকায় নাম তুলতে ট্রাইবুনালে আবেদনের লাইন। অর্থাৎ, চূড়ান্ত হয়রানি। ‘মানুষকে লাগাতার এই হয়রানির চক্রান্তে আছে বিজেপির মোদি-শাহ জুটি। সেই হয়রানির জবাব সুদে আসলে দিন।’ সোমবার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জলঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এভাবেই সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির পাশাপশি গদ্দারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মানুষকে সাবধান করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে এই মাটিকে ভাগের চেষ্টা করছে যারা, তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় দিন। বিজেপি লাগাতার ভয় দেখাচ্ছে। ভয় পাবেন না।’
বাংলার মাটি থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘লাগাতার মানুষকে সমস্যায় ফেলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভাবছে, পার পেয়ে যাবে। নির্বাচনে জোড়া ফুলের বোতামে এমনভাবে চাপ দেবেন, যেন দিল্লি পর্যন্ত ভূমিকম্প হয়।’
জলঙ্গিতে অভিষেকের সভায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। পুরুষ-মহিলা একে অপরকে টক্কর দিয়েছেন। সকলের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘আপনাদের কারও নাম বাদ যাবে না। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে হবে। বহিরাগত বিজেপিকে বিদায় দিন। সেইসঙ্গে বিজেপির বি-টিম ও সি-টিমকে ঝেঁটিয়ে দূর করুন।’ সায় দিয়ে করতালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল।
মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বারবার সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ ওঠে। বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে বলে এদিন সতর্ক করেন অভিষেক। বলেন, ‘এদিক-ওদিক থেকে বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে এই জেলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছিল কেউ কেউ। তাদের প্ররোচনায় পা দেবেন না। কষ্ট হলেও আর ২৮ দিন সহ্য করুন। দাঁতে দাঁত চেপে ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সুদে আসলে জবাব হবে।’ এদিন জলঙ্গির জনসভায় তৃণমূল প্রার্থী বাবর আলি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ডোমকলের প্রার্থী প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর ও রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মুর্শিদাবাদ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শাওনী সিংহরায় ও সাংসদ আবু তাহের খান। প্রার্থীদের সামনের লাইনে দাঁড় করিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ভোটবাক্সে জবাব দিন। তার আগে বাদ যাওয়া ভোটরাররা প্রত্যেকে ট্রাইবুনালে আবেদন করুন। আমরা সঙ্গে আছি।’