


সংবাদদাতা, বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুর: শুক্রবার ‘অভিমানে’ ইস্তফা দিয়েছেন বিজেপি জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী। যার জেরে বিধানসভা ভোটের আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় জোড়া সমস্যায় গেরুয়া শিবির। প্রথমত, জেলা সভাপতি হওয়ার লড়াই প্রবলভাবে শুরু হয়েছে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে দল জেলায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়াও ভাবাচ্ছে।
ফিরবেন কি না, তা নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি স্বরূপ। এদিকে, দলীয় সূত্রে খবর, অনেকে জেলা সভাপতি পদ পেতে শুরু করেছেন দরবার। জেলায় বর্তমান বিধায়কদের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে বালুরঘাট ও তপনে নতুন নাম ঘিরে চলছে চর্চা। প্রার্থী নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্র। তার মধ্যে বালুরঘাট, তপন এবং গঙ্গারামপুরে বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে বর্তমান বিধায়ক ছাড়াও নেতারা ঝাঁপিয়েছেন। স্বরূপও প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। যা নিয়ে শুরু হয় গোষ্ঠী কোন্দল। দিল্লিতে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তাতে নাম না থাকার কথা আগেই জানতে পেরেছিলেন স্বরূপ। তারপরই পদত্যাগের ঘোষণা। তবে স্বরূপের পদত্যাগপত্র এখনো জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্ব গ্রহণ করেনি। জেলা নেতৃত্ব ব্রিগেড নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পদত্যাগ ঘোষণা করে বাড়িতে বসে রয়েছেন স্বরূপ। অবশ্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে স্বরূপের অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করছেন সুকান্ত ঘনিষ্ঠরা। ফোন না তোলায় পদত্যাগী সভাপতির কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।
স্বরূপের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য বিনয় বর্মনের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, এবিষয়ে রাজ্য নেতৃত্ব যা করার করবে।
ভোটে টিকিট পাচ্ছেন না জেনেই দলে নিজের গুরুত্ব বোঝাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি স্বরূপের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার রাজনীতিতে। বিধানসভা ভোটের আগে স্বরূপকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গৌতম দাস।
সূত্রের খবর, স্বরূপকে তৃণমূলে নিয়ে সুকান্তর গড়ে ভাঙন ধরাতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। কারণ, ইতিমধ্যে জেলা বিজেপির বিভিন্ন শাখা সংগঠনে স্বরূপ ঘনিষ্ঠরা রয়েছেন। প্রার্থী নিয়েও বিজেপির কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বরূপের জন্য দরজা খোলা রাখছে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, এবার কুমারগঞ্জ কিংবা হরিরামপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার আশায় ছিলেন স্বরূপ। কিন্তু গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা কমতেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা করে দেন দু’বারের জেলা সভাপতি। তবে এটি রাজনৈতিক দর কষাকষির কৌশল নাকি ফুল বদলের ইঙ্গিত? তা নিয়ে চর্চা জেলাজুড়ে।
গৌতমের কথায়, স্বরূপ ধর্মনিরপেক্ষ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আগামী দিনে রাজনীতি করতে চাইলে তাঁকে স্বাগত।
তবে, স্বরূপ অন্য দলে যাবেন না বলে দাবি করেছেন বিজেপির জেলা ইনচার্জ গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল। বলেন, হয়তো অভিমান থেকে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু স্বরূপ অন্য দলে যাবেন বলে মনে করি না।