সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মূল ভবনের সামনে আবর্জনার দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। দূষণ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীর বাড়ির লোকেরা। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি বার বার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শুক্রবার সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ওই হাসপাতালের এক মেডিক্যাল অফিসার বলেন, আবর্জনা পরিষ্কার করার দায় পুরসভার। আমরা পুরসভাকে বার বার জানিয়েছি। এদিকে পুরসভার স্যানিটারি ইনস্পেক্টর অসীম আদকের বাবা মারা যাওয়ায় তিনি ছুটিতে। ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালটি শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। ওই ওয়ার্ড থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন ঘাটাল পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অজিতরঞ্জন দে। তিনি বলেন, শিলাবতী নদীর পশ্চিমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার আবর্জনা ফেলা হয়। ওই এলাকাটি একটু বন্যা হলেই প্লাবিত হয়ে যায়। তাই বন্যার সময় আবর্জনা ফেলার খুব সমস্যা হয়। সেজন্যই কয়েকদিন হাসপাতাল থেকে আবর্জনা সরানো সম্ভব হয়নি।
একই ক্যাম্পাসের মধ্যে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের রোগী ভর্তির পুরনো ভবনটির পাশেই তৈরি হয়েছে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভবনটি।
সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনরা বলেন, সুপার স্পেশালিটি ভবনের গেটের পাশেই ডান দিকে স্তূপাকার করে রাখা রয়েছে হাসপাতালে ব্যবহৃত নানান ধরনের আবর্জনা। কালো, লাল, হলুদ এবং নীল এই চার ধরনের পলিথিনে প্যাক করা বিভিন্ন ধরনের জৈব এবং অজৈব আবর্জনা রাখা রয়েছে। জৈব আবর্জনা থেকে নির্গত গন্ধে হাসপাতালের প্রথম এবং দ্বিতীয় তলে থাকা হাসপাতাল কর্মী এবং রোগীর পরিজনদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছে।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দিন সমস্ত ধরনের আবর্জনা বিভিন্ন রঙের পলিথিনে প্যাকেট করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করা হয়। সেখান থেকে পুরসভার কর্মীরা অজৈব বর্জ্য পদার্থের প্যাকেটগুলি নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্তূপাকার করে ফেলে রাখে। জৈব বর্জ্যগুলি হলদিয়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিযুক্ত ঠিকাদার নিয়ে চলে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্জ্যগুলি হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নিয়ে ফেলার মতো পরিকাঠামো বা অনুমতি তাদের নেই। সেই কারণে কিছু করা যাচ্ছে না।