Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জমা জলে চরম দুর্ভোগ বাসিন্দাদের, বেলুড়ে রাতভর নিকাশি পরিষ্কারের কাজ পুরসভার

বৃষ্টি থেমে গেলেও গলিতে জমে আছে জল। একাধিক বাড়ির ভিতরে জল থইথই করছে। এই সমস্যায় নাজেহাল বেলুড় স্টেশন রোড সংলগ্ন বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা।

জমা জলে চরম দুর্ভোগ বাসিন্দাদের, বেলুড়ে  রাতভর নিকাশি পরিষ্কারের কাজ পুরসভার
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বৃষ্টি থেমে গেলেও গলিতে জমে আছে জল। একাধিক বাড়ির ভিতরে জল থইথই করছে। এই সমস্যায় নাজেহাল বেলুড় স্টেশন রোড সংলগ্ন বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। অন্যদিকে নিকাশি সাফ করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে পুর কর্মীদের। শেষপর্যন্ত কলকাতা পুরসভা থেকে হাই প্রেসার জেটিং কাম সাকশন মেশিন আনতে হল পুরসভাকে। তা ব্যবহার করে মঙ্গলবার রাতভর ভূগর্ভস্থ নিকাশি পরিষ্কারের কাজ হয়েছে। হাওড়া পুরসভার মতো এখানেও নিকাশি নালা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্লাস্টিকের সামগ্রী। তারপর নিকাশি বাধা মুক্ত হয়েছে। এবং কয়েকটি এলাকা জমা জলের হাত থেকে রেহাইও পেয়েছে। 

Advertisement

অভিযোগ, বালির একাধিক এলাকা থেকে জমা জল সরলেও বেলুড় স্টেশন রোড সংলগ্ন খামারপাড়ার একটি বড় অংশ, বিধানপল্লির এ ও বি ব্লক এখনও জলের তলায়। বড় রাস্তা থেকে জল নেমে গিয়েছে। তবে অলিগলি জলমগ্ন। যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা। বহু বাড়ির ভিতরে জমে রয়েছে নোংরা জল। জল জমে আছে ঠাকুর রামকৃষ্ণ লেন, বিবি ঘোষ লেনেও। এই সমস্ত এলাকার জল বেলুড় স্টেশন রোডের আন্ডারগ্রাউন্ড নিকাশি হয়ে সরাসরি গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। জমা জল সরাতে এলাকা পরিদর্শনে যান বালি পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। ম্যানহোল খোলার পর দেখা যায় নিকাশির ভিতরের অংশ শুকনো। জমে থাকা আবর্জনার জন্য রাস্তার জমা জল নালায় ঢুকতেই পারেনি। প্রথমে শ্রমিকদের নামিয়ে নিকাশি পরিষ্কারের চেষ্টা করে পুরসভা। কিন্তু সে পদ্ধতি কাজে দেয়নি। তারপর বালির বিধায়ক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় উদ্যোগ নেন। কলকাতা পুরসভা থেকে হাই প্রেসার সাকশন কাম জেটিং মেশিন আনা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত বেলুর স্টেশন রোডের ন’টি ম্যানহোল পরিষ্কার হয়। অবশেষে বুধবার সকাল থেকে খামারপাড়ার একটি বড় এলাকা জলমুক্ত হয়। স্বস্তি ফেরে বিধানপল্লিতে।
বিধায়ক বলেন, ‘এখনও কয়েকটি পকেটে জল জমে আছে। ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ বাকি রয়েছে। ভূগর্ভস্থ নিকাশির পাশাপাশি সারফেস ড্রেনগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে।’ বালি পুরসভার তিন ও চার নম্বর ওয়ার্ডের বড়বাগান এলাকার নিকাশিতে বিশাল আকারের গাছের গুঁড়ি আটকে ছিল। সে কারণে জল জমে বলে খবর। জল বেরতে না পারা নিয়ে মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। নিকাশি থেকে উদ্ধার হয় বহু কেজি প্লাস্টিকের বোতল। পায়ের চটি। বিছানার তোশক। মহিলদের ব্যাগ। বডি স্প্রে’র ফাঁকা বোতল। ওষুধের শিশি সহ বহু কিছু। বিধায়ক বলেন, ‘পুরসভা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের কোনও চেষ্টাই সফল হবে না যদি মানুষ সচেতন না হন। নাগরিকদের একাংশ যদি নিকাশিকে ডাস্টবিন ভাবা বন্ধ করেন, তাহলেই জমা জলের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।’  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ