নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২০ মার্চ হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভাগাড়ে ভূমিধস হয়েছিল। সে ঘটনার একমাস হতে চলল। কিন্তু জানা গিয়েছে, এখনও সয়েল টেস্টের রিপোর্ট এসে পৌঁছয়নি জেলা প্রশাসনের হাতে। এছাড়া আর একটি সমস্যা ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির বাসিন্দাদের কন্টেনার হাউসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে থাকতে নারাজ তাঁরা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন ঘর তৈরি করা নিয়েও দ্বিধায় প্রশাসন। বেলগাছিয়া সংলগ্ন একটি জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য কটেজ তৈরির পরিকল্পনা করেছে।
বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভূমিধসের ঘটনার পর রাজ্য সরকারের নির্দেশে সেখানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানীদের একটি দলকে সয়েল টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছিল। জেলা প্রশাসন ভেবেছিল, সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে রিপোর্ট হাতে আসে যাবে। তারপর ভাগাড়ের প্রায় দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকায় আরও কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা করা যাবে। সেখানে পাকা ঘর তৈরি করা যায় কি না সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন ১১৩টি পরিবার পার্শ্ববর্তী স্কুল ও কোচিং সেন্টারে রাত্রিবাস করছে। তাদের আর্থিক অনুদান দিয়েছে রাজ্য। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য কন্টেনার হাউসও তৈরি করে দেয় জেলা প্রশাসন। জানা গিয়েছে, সে হাউস প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অত্যধিক গরমের কারণে সেখানে থাকতে চাইছেন না ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। উল্টে ক্ষতিপূরণের টাকায় অনেকে নিজের ঘরের কিছু অংশ মেরামত করে থাকতে শুরু করে দিয়েছেন। ফলে সাতটি কন্টেনার হাউজ ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘মাটির নমুনা দেরিতে সংগ্রহ হয়েছিল। সেজন্য রিপোর্ট আসতে দেরি হতে পারে। তবে বাসিন্দাদের থাকার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, ৪১টি পরিবারের বাড়ি ভূমিধসের কারণে সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। তাঁরা এখনও স্কুলেই থাকছেন। বেলগাছিয়া সংলগ্ন এলাকায় একটি জায়গা চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে ছোট আকারের কটেজ তৈরি করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। পাকাপাকিভাবে ঘর তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সেখানে রাখা হবে। পরবর্তীকালে কটেজগুলি ত্রাণ শিবির হিসেবে ব্যবহার করবে জেলা। পাশাপাশি এদিন হাওড়া সিটি পুলিস বেলগাছিয়া ভাগাড় এলাকায় গিয়ে মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছে। একটি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মহিলাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন হাওড়া পুলিসের ডিসি নর্থ সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।