নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় এক যুগ আগে শেষবার হয়েছিল রাস্তা সংস্কারের কাজ। বর্তমানে সেখানে রাস্তা বলে অবশিষ্ট কিছু নেই। সবটাই কার্যত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তা জুড়ে বড় বড় গর্ত। তাতে জল জমে টইটম্বুর অবস্থা। সাইকেল, টোটো তো দূরঅস্ত, হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওড়ার বাঁকড়া বাজার থেকে রশিকল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এই রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ কয়েক হাজার বাসিন্দা। প্রতিবাদে বুধবার সকালে রাস্তার স্ল্যাব তুলে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। শেষে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে।
বাঁকড়া বাজার থেকে রশিকল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার পাশে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বাঁকড়া গ্রামীণ হাসপাতালে যাওয়ার এটিই অন্যতম রাস্তা। রয়েছে শিশুদের স্কুলও। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সাল নাগাদ শেষবার রাস্তা সংস্কার হয়েছিল। কয়েক বছর পর ধীরে ধীরে এই রাস্তা খারাপ হতে শুরু করে। উঠে যায় পিচের আস্তরণ। শেষ কবে রাস্তায় পিচের প্রলেপ পড়েছে, তা মনে করতে পারছেন না কেউ। রাস্তা সারাইয়ের দাবি তুলে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। প্রতিবাদেও নেমেছিলেন। মাস ছয়েক আগে স্থানীয় বাঁকড়া ৩ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত দু’দিনের বৃষ্টিতে গোটা রাস্তা কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছে। প্রায়দিনই গর্তে চাকা পড়ে উল্টে যাচ্ছে বাইক, সাইকেল, রিকশ। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলছে টোটো। রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যেতে পারছে না অ্যাম্বুলেন্স। ফলে প্রায় চার কিলোমিটার ঘুরে অ্যাম্বুলেন্সকে পৌঁছতে হচ্ছে বাঁকড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। স্থানীয়রা জানান, রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়দিনই ছোটখাট দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে শিশুরা।
এদিন সকাল ৭টা থেকে রশিকল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। রাস্তার পাশে বসানো কংক্রিটের স্ল্যাব তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতায়াত। ফলে তীব্র যানজট তৈরি হয় ওই এলাকায়। বিক্ষোভকারী মহম্মদ সাহেব, আনিসুর রহমান সর্দাররা বলেন, ‘পঞ্চায়েত প্রধান এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করেন। রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখেও ব্যবস্থা নেন না। অথচ রাস্তা সারাইয়ের টাকা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েছি বিক্ষোভে নামতে।’ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিকাশিনালা সংস্কারের কোনও ইচ্ছাই নেই পঞ্চায়েতের। দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতকে বলার পর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা প্রায় ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে নিকাশিনালা পরিষ্কার করেন। দ্রুত রাস্তার হাল না ফিরলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন বাসিন্দারা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের পর ঘটনাস্থলে যান ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নুরজ মোল্লা। তিনি বলেন, ‘একথা ঠিক যে, সাধারণ মানুষ ভীষণ সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। দিন দশের মধ্যেই রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হবে।’ - নিজস্ব চিত্র