নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গ্রীষ্মের মরশুমে পানীয় জল নিয়ে বিপাকে উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা। গরমের দাপটে নয়, পুরসভার পরিকল্পনার অভাবেই জল সঙ্কট তৈরি হয়েছে, এমনই অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁদের বক্তব্য, দিনের বেশিরভাগ সময় কল দিয়ে সুতোর মতো জল পড়ছে। কখনও কখনও আবার পুরসভার জলের পাইপ দিয়ে ঘোলা জল আসছে। ফলে নিত্য সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা। শুধু একটি বা দু’টি ওয়ার্ডে এই সমস্যা নয়, গোটা পুর এলাকা জুড়েই এই সমস্যা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হয়েছিল। সেখানে গত একমাসে জল নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। তারমধ্যে সিংহভাগই হল, হয় ঘোলা জল, না হয় সুতোর মতো সরু হয়ে পড়ছে। পুরকর্তাদের দাবি, একটি বৃহত্তর ও নতুন পরিষেবা উত্তরপাড়ায় চালু করা হয়েছে। যে কোনও নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রাথমিক কিছু সমস্যা থাকে। দ্রুত তা মিটিয়ে ফেলা হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, বাসিন্দাদের সমস্যা হচ্ছে, তা সত্যি। পুরসভার কাছে একগুচ্ছ অভিযোগও এসেছে। কিন্তু বাংলার অন্যতম বৃহৎ জলপ্রকল্প উত্তরপাড়ায় করা হয়েছে। নদী থেকে জল তুলে তা শোধন করে বাসিন্দাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আমরা সেই পর্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তবে ভবিষ্যতে এই সমস্যা থাকবে না। এনিয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, সমস্ত প্রকল্প চালু করার একটি পদ্ধতি থাকে। বর্তমান পুরবোর্ড সেসব মানে না। প্রকল্পের কাজ কতটুকু হয়েছে, তা বিচার না করে তারা প্রচারসর্বস্ব হয়ে পড়েছে। অল্প কাজ হলে চলে তার গালভরা প্রচার। সেকারণেই মানুষকে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। অপরিকল্পিত প্রকল্পের কুফল ভুগতেই হবে।
রাজ্যে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ জলসঞ্চয় ও সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে তৎপরতা শুরু হয়। ২০২৪ সালে সেই প্রকল্পের সিংহভাগ রূপায়িত হয়ে যায়। এরপর উত্তরপাড়া শহরজুড়ে নতুন প্রকল্পের আওতায় জল সরবরাহ শুরু হয়। যদিও ওই প্রকল্পের পুরো কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। পুরসভার হিসেব অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ৫-৭ শতাংশ এলাকায় নতুন জলের সংযোগ বা পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু যেখানে কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে, সেখানকার মানুষকে নোংরা জল আর জলের প্রবাহ না থাকার সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। পুরসভার একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, নোংরা, ঘোলা জলের সমস্যাকে এখনও চিহ্নিতই করা যায়নি। তবে জলের গতি কেন কম, তা ধরা গিয়েছে। পুরসভার এক কর্তা বলেছেন, সামান্য ত্রুটি ছিল। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যা খুবই স্বাভাবিক। সেই সমস্যা মেটানোর কাজ শুরু হয়েছে।