সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: কারও মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে এলাকা ঘোরানো হল, আবার কারও মাথায় ফাটানো হল ডিম। এভাবেই তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মেটালেন এলাকার মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে শ্যামপুর থানার আমড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
আমড়দহ পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসাবে পরিচিত সন্ন্যাসী মান্না। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জব কার্ড, ব্যাংকের বই, আধার কার্ড সহ বিভিন্ন নথি আটকে রাখার অভিযোগ ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রবিবার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে জব কার্ড, ব্যাংকের পাশবই, রেশন কার্ড সহ বিভিন্ন জিনিস। এরপর তাঁদের ক্ষোভ চরমে ওঠে। তাঁরা সন্ন্যাসী মান্নাকে বাাড়ির বাইরে বের করে এনে মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরান। তৃণমূলের এই নেতাকে এই অবস্থায় দেখে উপস্থিত লোকজন ‘চোর চোর’ বলে চেঁচাতে থাকেন। পরে শ্যামপুর থানার পুলিশ এসে সন্ন্যাসীকে উদ্ধার করে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে সন্ন্যাসী। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে টাকা নয়ছয় করেছে সে। আবাস যোজনার টাকা থেকে নিয়মিত কাটমানি নিত। সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিত। তার ভয়ে এলাকার মানুষ কোনো কথা বলতে পারতেন না। এদিন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার কঠোর শাস্তি দাবি করেন গ্রামবাসীরা। অন্যদিকে, অনৈতিক কাজের প্রতিবাদে এদিন আমড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমি মাইতিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের মহিলারা। তাঁরর মাথায় ডিম ফাটানো হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে প্রধান দুর্নীতি করেছেন। পরে পুলিশ এসে প্রধানকে উদ্ধার করে। এদিন শ্যামপুরের খাড়ুবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল মাইতির বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁরা প্রধানকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকেও উদ্ধার করে। এ প্রসঙ্গে হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার সুবিমল পাল বলেছেন, কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্যামপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আমি হাতজোড় করে এই ধরনের আচরণ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি। বিজেপি কর্মীদেরও বলেছি, সজাগ থাকতে। প্রাক্তন বিধায়ক কালীপদ মণ্ডল বলেন, বিজেপি এমন সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে, যাতে পঞ্চায়েত ভোটে কেউ প্রার্থী হওয়ার সাহস না পায়। নিজস্ব চিত্র