রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে রাজ্য সরকারের সুফল বাংলার দুয়ারে সবজি কর্মসূচি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চা মহল্লায় দুয়ারে সবজির কর্মসূচির এই সাফল্যে সুফল বাংলা পরিচালিত মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটির মহিলাদের মুখে এখন চওড়া হাসি। চা মহল্লার দুয়ারে শাক সবজি পৌঁছে দিয়ে সোসাইটির মহিলারা আয়ের রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন। বাড়িতে বসেই টাটকা শাক সবজি পেয়ে বাগানের শ্রমিকরা এবং বাসিন্দারা রাজ্যের এই পদক্ষেপে বেজায় খুশি।
কিন্তু কেন এই পদক্ষেপ? প্রশাসন সূত্রে খবর, নদী জঙ্গল পাহাড়ি ঝোরা ডিঙিয়ে ডুয়ার্সের দুর্গম প্রত্যন্ত চা বাগানের শ্রমিকদের নিত্য আনাজ কিনতে ১৫-২০ কিমি দূরে বাজারে যেতে হয়। এই সমস্যা লাঘব করতেই সুফল বাংলা থেকে বাগানে বাগানে মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলিকে আনাজ বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়। চা মহল্লার বাড়ি বাড়ি শাক সবজি বিক্রির জন্য কুমারগ্রাম, কালচিনি, বীরপাড়া ও মাদারিহাটে ছয়টি মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সোসাইটিকে গাড়িও দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে সোসাইটির মহিলাদের হাতে সেই গাড়ির চাবি তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবজি বিক্রির লভ্যাংশ থেকে গাড়ির জ্বালানির দাম, চালক ও সবজি লোডিং আনলোডিংয়ের জন্য তিনজন শ্রমিকের বেতনও দেওয়া হয়।
প্রতিটি সোসাইটিতে ৬০-৬৫ জন করে মহিলা সদস্য আছেন। প্রতিদিন কাকভোরে জেলার কৃষিমাণ্ডিগুলি থেকে সোসাইটির সদস্যরা সুলভ দামে সবজি কেনেন। তারপর সেই সবজি নিয়ে সাতসকালে বাগানে বাগানে পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁরা। সোসাইটির মহিলা সদস্যরা জানান, প্রথম দুই মাস সেভাবে লাভ পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরের মাস থেকেই লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা।
কালচিনির মধু টি গার্ডেন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির পরিচালিকা কণিকা ধানোয়ার বলেন, রাজ্য সরকারের এই অভিনব উদ্যোগে আমরা আর্থিক আত্মনির্ভরতার নতুন রাস্তা খুঁজে পেয়েছি। বাগানের বাসিন্দারা এখন যেমন টাটকা শাক সবজি পাচ্ছে, তেমনি আমরাও বাঁচার দিশা পেয়েছি। আমরা কালচিনির ১৪টি দুর্গম বাগানে শাক সবজি পৌঁছে দিচ্ছি।
মাদারিহাটের হাণ্টাপাড়া কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান বাসিল কাণ্ডলনো বলেন, বাগানে বাগানে শাক সবজি বিক্রি করে লাভ হওয়ায় আমরা কাজটি মন দিয়ে করছি।
আলিপুরদুয়ার রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সম্পাদক উত্তম ভৌমিক বলেন, দপ্তর থেকেই কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলিকে গাড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোসাইটিগুলিকে আনাজও কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি সফল হওয়ায় ভালো লাগছে। নিজস্ব চিত্র।