সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: প্রায় অর্ধশতক পর অবশেষে বাড়ির হোল্ডিং নম্বর বা নির্দিষ্ট ঠিকানা পেতে চলেছেন হাওড়া পুরসভার সংযুক্ত এলাকার বাসিন্দারা। অর্থাৎ এবার থেকে আর এলাকা বা রাস্তার নাম ধরে বাড়ির ঠিকানা বলতে হবে না। জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতাও আর থাকবে না। আপাতত একটি ওয়ার্ডে এই পদ্ধতি শুরু করেছে হাওড়া পুরসভা। পর্যায়ক্রমে ছ’টি ওয়ার্ডেই হোল্ডিং নম্বরের সুবিধা পাবেন বাসিন্দারা। হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সংযুক্ত এলাকায় ছ’টি ওয়ার্ড রয়েছে। ৪৫ থেকে ৫০ নম্বর— এই ওয়ার্ডগুলি মূলত বালিটিকুরি, দাশনগর, কোনা, ধাড়সা ও জগাছার মধ্যে পড়ে। রাস্তাঘাট, নিকাশি, পানীয় জল কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সংযুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সবথেকে বেশি ভোগান্তি বাড়ির হোল্ডিং নম্বর না থাকায়। অচেনা কাউকে কারও বাড়িতে যেতে হলে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো এতদিন। গৃহকর্তার নাম ধরে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতে হতো তাঁদের।
গত কয়েক বছরে হাওড়ার এই সংযুক্ত এলাকায় নতুন করে কয়েক হাজার বাড়ি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগও নিয়েছে প্রতিটি পরিবার। নির্দিষ্ট হোল্ডিং নম্বর ছাড়াই হয়ে এসেছে সবকিছু। কিন্তু এটি না থাকায় বাড়ির মিউটেশন, জমি বিক্রি, ঋণ নেওয়া কিংবা জমি সংক্রান্ত যে কোনও আইনি কাজে বারবার সমস্যায় পড়তে হতো বাসিন্দাদের। পুরসভার কাছে বহুবার এই সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। অবশেষে সংযুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের এই ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে উদ্যোগ নিয়েছে হাওড়া পুরসভা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরকর্মীরা ফর্ম বিলি করা শুরু করেছেন। সেই ফর্ম পূরণ করার পর জমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্র পুরসভায় জমা করলেই বাড়ির হোল্ডিং নম্বর পাবেন বাসিন্দারা। একে একে বাদবাকি ওয়ার্ডেও দ্রুত হোল্ডিং নম্বর দেবে পুরসভা।
হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘এলাকায় হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কাজ গত ৪৫ বছরে হয়নি। এই প্রথম পুরসভা এমন উদ্যোগ নিল। এর ফলে জমি সংক্রান্ত হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন বাসিন্দারা।’ ইতিমধ্যেই এইসব ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অংশে প্রথমবার পাকা রাস্তা তৈরি করেছে পুরসভা। মিটেছে পানীয় জলের সমস্যাও। কোনা এলাকার বাসিন্দা অরবিন্দ সাঁপুই বলেন, ‘জমির মিউটেশন করা নিয়ে খুব সমস্যা হচ্ছিল। বাড়ির জন্য ঋণ নিতে গেলেও ভোগান্তি হতো। হোল্ডিং নম্বর থাকলে আর সেই সমস্যা হবে না।’ অনেকেই বলেন, ‘এতদিন রাস্তার নাম বলে মানুষকে বাড়ির ঠিকানা বোঝাতে হতো। এবার থেকে আর সেটা হবে না।’