নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর প্রথমবার হাওড়া শহরের সংযুক্ত এলাকার বাসিন্দাদেরও নির্দিষ্ট ঠিকানা ‘উপহার’ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল পুরসভা। একমাস আগেই শুরু হয়েছিল সেই প্রক্রিয়া। অবশেষে পুজোর উপহার হিসেবে ৪০টি পরিবার পেল বাড়ির হোল্ডিং নম্বর। এদিন হাওড়া পুরসভায় বাড়ির মালিকদের হাতে হোল্ডিং নম্বরের নথি তুলে দেন মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী ও পুর কমিশনার বন্দনা পোখরিওয়াল।
পুরসভার মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকাটা প্রত্যেকের অধিকার। হোল্ডিং নম্বর না-থাকলে হাজারো সমস্যায় পড়তে হয়। গত ৫০ বছরে সংযুক্ত এলাকায় হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কথা কেউ ভাবেননি। কাজটা সহজ ছিল না। অ্যাসেসমেন্ট দপ্তরের প্রত্যেক আধিকারিক ও কর্মীদের তৎপরতায় এটা সম্ভব হল।’
হাওড়া পুরসভার ৪৫ থেকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ড মূলত সংযুক্ত এলাকার মধ্যে পড়ে। দাশনগরের একটি বড় অংশের পাশাপাশি বালিটিকুরি, জগাছা, কোনা, ধারসার বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে এর মধ্যে। নিকাশি, রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও অপ্রতুল স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সংযুক্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের ছিল। তবে সবথেকে বেশি ভোগান্তি ছিল বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা বা হোল্ডিং নম্বর না-থাকা নিয়ে। বছরের পর বছর ধরে সংযুক্ত এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে। প্রচুর নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে। মিলেছে বিদ্যুৎ সংযোগও। অথচ সবকিছুই হয়ে এসেছে হোল্ডিং নম্বর ছাড়াই। ফলে নাগরিক সুযোগ সুবিধে ভোগ করলেও বাড়ির মিউটেশন, লোন পাওয়া, বাড়ি বিক্রি কিংবা জমি সংক্রান্ত যেকোনও আইনি কাজে বারংবার সমস্যায় পড়তে হতো তাদের।
এদিন পুরসভা থেকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ৪০টি পরিবারকে হোল্ডিং নম্বরের নথি তুলে দেওয়া হয়। হোল্ডিং নম্বর পেয়ে ভীষণ খুশি বাসিন্দারা। প্রথমবার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে অরুণ পোল্লে, সুবীর দত্ত, উদয়শংকর বাগ বলেন, ‘তিন প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছি। বাড়ির হোল্ডিং নম্বর না-থাকার কারণে কত ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে। অবশেষে পুরসভা আমাদের সমস্যার সমাধান করল।’
পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের কথায়, ‘আরও বহু মানুষকে হোল্ডিং নম্বর দিতে হবে। ছয়টি ওয়ার্ডেই এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া জারি থাকবে।’ নিজস্ব চিত্র