Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাজেটে বরাদ্দ বাড়বে, আশায় গৌড়বঙ্গবাসী, মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিক লিখিত দাবি বণিকসভার

দায়িত্ব নিয়েই উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গ থেকে দশজন মন্ত্রীর পাশাপাশি বিধানসভার অধ্যক্ষ করা হয়েছে।

বাজেটে বরাদ্দ বাড়বে,  আশায় গৌড়বঙ্গবাসী, মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিক লিখিত দাবি বণিকসভার
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: দায়িত্ব নিয়েই উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গ থেকে দশজন মন্ত্রীর পাশাপাশি বিধানসভার অধ্যক্ষ করা হয়েছে। ফলে আজ, সোমবার রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে উত্তরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির আশায় বিভিন্ন মহল।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে দেখা করে লিখিতভাবে নানা দাবি জানিয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বণিক সংগঠন। শিল্পে ছাড় থেকে উত্তরের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি চা কিংবা পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে জমা পড়েছে বহু প্রস্তাব। সেসবের কতটা আজকের বাজেটে প্রতিফলিত হয়, সেটাই দেখার। 
তৃণমূল সরকারের আমলে ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের জন্য ৮৬৬ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিজেপি সরকার উত্তরের জন্য কতটা অর্থ বরাদ্দ বাড়ায় সেদিকে তাকিয়ে সব মহল। তবে, ভালো কিছুর আশা করছেন গৌড়বঙ্গের বাসিন্দারা এবং বণিকসভা। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, কালিয়াচক ও গাজোলে দু’টি দমকল কেন্দ্র গড়া হোক। কালিয়াচকে সিল্কের উৎপাদন বাড়ছে। গাজোলে শিল্পতালুক রয়েছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত মোকাবিলায় এলাকায় দমকল কেন্দ্র জরুরি।
উত্তমের দাবি, মালদহে আম প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের দাবি জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। মালদহ বিমানবন্দর নিয়ে রাজ্য যাতে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে, সেই আবেদনও রাখা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে শিল্পে বিদ্যুতের চার্জ বেশি। এনিয়ে রাজ্যকে জানিয়েছেন তাঁরা। 
শিল্পের ক্ষেত্রে উৎসাহ ভাতা, সমস্যা সমাধানে সরকারি নজরদারি এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে যাতে সমন্বয় সাধন করে কাজ হয়, সেব্যাপারে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুণ্ডু। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গে কোনো বড়ো শিল্প নেই। বৃহৎ শিল্প হলে বেশকিছু অনুসারী শিল্প হতে পারে। এতে চাঙ্গা হবে উত্তরের অর্থনীতি।
ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, নর্থবেঙ্গলের (ফোসিন) সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাসের কথায়, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নর্থ ইস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন পলিসির মাধ্যমে যে সুবিধা দেওয়া হয়, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিও যাতে তা পায়, সেব্যাপারে উদ্যোগ নিক রাজ্য। নতুবা রাজ্যের তরফে উত্তর-পূর্বের মতো উত্তরবঙ্গে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সুবিধার কথা ঘোষণা করা হোক।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, উত্তরের পর্যটনের প্রসারে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ব্র্যান্ডিং ও প্রোমোশনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হোক। রবিবার রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী তথা ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা দশজন মন্ত্রী রয়েছি। নিজেদের দপ্তরের বাজেট থেকেও উত্তরের উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ খরচ করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ