Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে ধূপগুড়ির একাধিক হোটেল, তৎপর দমকল বিভাগ

প্রথমে তারাপীঠ তারপরেই কলকাতা। ধারাবাহিকভাবে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল সমগ্র পশ্চিমবঙ্গজুড়ে। সেই আবহে প্রশাসন তৎপর হয়েছে রাজ্যের সব হোটেল গুলির অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার তদারকি করতে।

ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে ধূপগুড়ির একাধিক হোটেল, তৎপর দমকল বিভাগ
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৪২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রথমে তারাপীঠ তারপরেই কলকাতা। ধারাবাহিক ভাবে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল সমগ্র পশ্চিমবঙ্গজুড়ে। সেই আবহে প্রশাসন তৎপর হয়েছে রাজ্যের সব হোটেলগুলির অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার তদারকি করতে। সেই তদন্তে পরপর উঠে এসেছে ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়াই একাধিক হোটেলের নাম। তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবার ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়াই ধূপগুড়িতে একাধিক হোটেল ও লজ চলার অভিযোগ উঠে এল। বিষয়টি নজরে আসতেই সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে নোটিস ধরিয়েছে দমকল বিভাগ। অভিযোগ, প্রথমবার নোটিস দেওয়ার পরও হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপরই দ্বিতীয়বার নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, শুধু ধূপগুড়ি নয়, জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও একাধিক হোটেল, লজ, রেস্টুরেন্ট এবং বহুতল ভবনে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চলছে। ফলে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে হোটেলে একসঙ্গে বহু মানুষের উপস্থিতি থাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতিতে বিপদের আশঙ্কা আরও বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে তারাপীঠ ও কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আরও তৎপর হয়েছে দমকল বিভাগ। বিভিন্ন হোটেল, লজ ও রেস্টুরেন্টে পরিদর্শন চালিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলিপুরদুয়ারের পাশাপাশি ধূপগুড়ির এক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে ধূপগুড়িতে। এরপর থেকেই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে হোটেল ও লজগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র নোটিস দিয়ে বিষয়টি থামিয়ে না রেখে প্রতিটি হোটেল, লজ ও রেস্টুরেন্টে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না তা দ্রুত পরীক্ষা করা হোক। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টো ১৫ নাগাদ ১৫ নম্বর মির্জা গালিব স্ট্রিটের বিল্ডিংয়ের তিনতলায় ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে এসি বা রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেশার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা বলে আশঙ্কা তদন্তকারীদের। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে হোটেল সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক শিশু সহ নয়জনের। এর ঠিক কিছু দিন আগেই বিরভূমের তারাপীঠ সংলগ্ন একটি বহুতল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডেও ৯জনের মৃত্যু হয়। দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, হোটেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ