সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: গাঠিয়া নদীর পাশে জেলা পরিষদের রাস্তা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফের বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত নাগরাকাটার ছাড়টন্ডুর বাসিন্দারা। বর্ষা শুরু হতেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ছাড়টন্ডু লাগোয়া গাঠিয়া নদী পাড়ের বাসিন্দারা। কারণ নদীর পাশে থাকা জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের রাস্তাটির কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে কাজ হয়েছে তাতে জলের তোড়ে ফের ভেসে যাবে গোটা রাস্তা। এই রাস্তাটি এলাকার মানুষের লাইফলাইন। চা বাগান, কৃষিজমি এবং একাধিক গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এর আগেও একবার বন্যায় ভেঙে গিয়েছিল রাস্তাটি। তখন কোনো স্থায়ী সমাধান না করে শুধু মাটি দিয়ে ভরাট করে দায়সাড়া ভাবে কাজ করা হয়েছিল। তারপর গত বছর ৫ অক্টোবরের বিধ্বংসী বন্যায় সেই রাস্তা ফের সম্পূর্ণ ভেসে যায়।
গত বছরের বন্যার পর জেলা পরিষদের তরফে রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। কিন্তু গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আগের মতো উঁচু করে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরির কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। নীচু করেই কোনোরকমে মেরামত করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। শুধু রাস্তাই নয়, নদী বাঁধ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। গাঠিয়া নদীর পাড়ে জালি-তারের বাঁধ লাগানো হলেও তার সঙ্গে কোনো গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে নদীর স্রোত সরাসরি এসে ধাক্কা দিচ্ছে রাস্তার গায়ে।
সফিয়ার রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এর আগেও একই ঘটনা ঘটেছিল। কাজ হয়, কিন্তু মজবুত করে হয় না। এখনও বর্ষা চলছে, একবার বড় বন্যা হলেই এই রাস্তা থাকবে না। তখন আমাদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে।
এবিষয়ে জেলা পরিষদ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটি আগের চেয়ে উঁচু করে, মজবুতভাবে ঢালাই করে তৈরি করতে হবে এবং নদীর পাড়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাইড বাঁধ সহ স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। রাস্তার কাজের বরাতপ্রাপ্ত এজেন্সির তরফে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের যেভাবে কাজটি করতে বলা হয়েছিল আমরা সেভাবেই কাজ শেষ করেছি। • নিজস্ব চিত্র।