সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মাছ বাজারের আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে কার্যত ঘরবন্দি নবদ্বীপ ব্লকের চরমাজদিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, মাছ বাজারের পাশাপাশি সংলগ্ন ঢালাই রাস্তাজুড়েও যেখানে সেখানে পড়ে থাকছে আবর্জনা। মাছের আঁশ, নাড়িভুঁড়ি থেকে শুরু করে অবিক্রিত পচা মাছ পর্যন্ত ফেলা হচ্ছে বাজারের ডাস্টবিন ও রাস্তার ধারে। ফলে এলাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পরিস্থিতি এমনই যে, দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারের সামনে থাকা বাড়িগুলির দরজা, জানলা বন্ধ রাখতে হচ্ছে বহু বাসিন্দাদের। পঞ্চায়েতকে বারবার জানিয়েও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চরমাজদিয়া বাজারের এক দিকে সবজি বাজার, অন্য দিকে মাছের বাজার। পাশাপাশি রয়েছে একাধিক মুদিখানার দোকান। চরমাজদিয়া বাজার সংলগ্ন বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাছ বাজারের আবর্জনা প্লাস্টিকের বড়ো বড়ো ব্যাগে ভরে রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। বাজারের মধ্যে থাকা ডাস্টবিনেও নিয়মিত মাছের আঁশ, নাড়িভুঁড়ি ও পচা মাছ ফেলা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, দুর্গন্ধের কারণে কয়েকটি বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময়ও নাক-মুখ রুমালে ঢেকে চলতে হচ্ছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে শিশু থেকে প্রবীণরা মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তার উপর বাজার চত্বরে নির্দিষ্ট কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। ফলে এক শ্রেণির মানুষ রাস্তার পাশের নর্দমায় প্রস্রাব করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
চরমাজদিয়া মাছ বাজার সংলগ্ন বাসিন্দা রাধেশ্যাম দেবনাথ বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানে প্রায় ১২-১৪ ঘর বাস করি আমরা। বাজারের অন্য একটি অংশে পঞ্চায়েত ঢালাই রাস্তা করেছে। সেখানেও জল জমে থাকে।
চরমাজদিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ দত্ত বলেন, বার বার অনুরোধ করে পঞ্চায়েতকে আর বলি না। এই সমস্যার সমাধান হবে না, এই নরকযন্ত্রণা আমাদের ভোগ করতেই হবে।
গাদিগাছা মহেশগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় মাংস বিক্রেতা ফকির আলি শেখ বলেন, চরমাজদিয়া বাজারেই আমার মাংসের দোকান। দোকানের পাশেই নোংরা আবর্জনা পড়ে থাকে। এর মধ্যে কী ভাবে ব্যবসা করা যায়?
স্বরূপগঞ্জের বাসিন্দা তথা স্থানীয় ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, স্বরূপগঞ্জ, চরমাজদিয়া ও চরব্রহ্মনগরের বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে বাজারে যাতায়াত করেন। কয়েকদিন আগে বাজারে ডাস্টবিন বসানো হলেও সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না।
তৃণমূল পরিচালিত চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপন দেবনাথ বলেন, পঞ্চায়েতের আর্থিক সামর্থ্য নেই। সে কারণে পরিকল্পনা থাকলেও কিছু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি বিধায়ককে জানাব। -নিজস্ব চিত্র