নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাস্তা ভাঙলে কার কাছে অভিযোগ জানাবেন? নিকাশি উপচে পড়লে কে ব্যবস্থা নেবে? জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, সরকারি প্রকল্পের নথি কিংবা পুরসভার বিভিন্ন পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় পড়লে কার দ্বারস্থ হবেন? বারাসত পুরসভার একঝাঁক কাউন্সিলারের পদত্যাগের পর এই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। তার উপর পুরসভায় নেই চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান। ফলে প্রশাসনিক কাজ চললেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুরসভার যে সরাসরি যোগাযোগের সেতু ছিল, তাতেই তৈরি হয়েছে বড় ফাঁক। আর সেই কারণে বাসিন্দাদের দাবি, অন্তত বিধায়ক ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের অভিযোগ শুনুন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিন। শহরবাসীর অভিযোগ, নির্বাচিত কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করার পর এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলি শোনার জন্য কোনো জনপ্রতিনিধি নেই বললেই চলে। কিন্তু নাগরিক সমস্যার তো কোনো রাজনৈতিক ক্যালেন্ডার থাকে না! প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হচ্ছে, রাস্তার আলো নষ্ট হচ্ছে বা নিকাশি ব্যবস্থা বিকল হচ্ছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য এতদিন কাউন্সিলারের দ্বারস্থ হতেন সাধারণ মানুষ। এখন সেই পথ বন্ধ। তাছাড়া তৃণমূল কাউন্সিলারদের জানানো হলেও অনেক সময় কাজ না হওয়ার অভিযোগ উঠত। নয়া বিজেপি সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে। তাই বারাসতের ‘ভূমিপূত্র’ বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের কাছে মানুষের কাজের দাবিও জোরালো হচ্ছে। এছাড়া পুরসভার বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের। জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদন আয়ের বা বসবাসের প্রমাণপত্রসহ নানা ক্ষেত্রে কাউন্সিলারের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। কাউন্সিলার না থাকায় অনেককেই একাধিকবার পুরসভায় ছুটতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক থেকে অসুস্থ মানুষদের ভোগান্তি বেড়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পালাবদল বা কাউন্সিলারদের পদত্যাগ যে কারণেই হোক, তার বোঝা সাধারণ মানুষের উপর চাপানো উচিত নয়। বিধায়ক ও প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষের অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা করা দরকার। এতে নাগরিক সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থাও বজায় থাকবে। তাই বারাসতে এখন জোরালো হচ্ছে একটাই দাবি—রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে মানুষের কথা শোনার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।



