নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তীব্র দাবদাহে প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষের। এই পরিস্থিতিতে কেএমডিএ’র জল প্রকল্পের পাইপলাইন সংস্কারের জন্য টানা ১৬ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে দেখা দিয়েছে জল সংকটের আশঙ্কা। তবে কেএমডিএ জানিয়েছে, জল সরবরাহ বৃদ্ধির জন্যই এই কাজ করতে হবে। কামারহাটির একটি জলপ্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টে থেকে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত জল সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা চারটি পুরসভাকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। পুরসভাগুলির তরফে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে প্রয়োজনে আগাম কিছুটা জল সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কামারহাটিতে রয়েছে কেএমডিএ’র বরানগর-কামারহাটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ফেজ-১)। ৩০ এমজিডি পানীয় জল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্প থেকে মূলত বরানগর ও কামারহাটি পুরসভা এলাকায় জল আসে। এই দুই পুরসভা ছাড়াও পাশের পানিহাটি এবং উত্তর দমদম পুরসভা জল পায়। সূত্রের খবর, তীব্র গরমে গঙ্গার জলস্তর কমেছে। ফলে গঙ্গা থেকে অপরিশোধিত জলই বেশ কিছুটা কম উঠছে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের মল্লিকবাড়ি ইনটেক পয়েন্ট অর্থাৎ যেখান থেকে গঙ্গার জল তোলা হচ্ছে, সেখানকার পাইপে পলি জমেছে। সব মিলিয়ে কমেছে জল সরবরাহের পরিমাণ। দ্রুত সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ১৬ ঘণ্টা ইনটেক পয়েন্টে জল উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে পাইপলাইন সংস্কার হবে।
সম্ভাব্য জল সংকটের কথা মাথায় রেখে চার পুরসভা সমাজ মাধ্যমের পাশাপাশি মাইকিং করে প্রচার শুরু করেছে। নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে কিছু বিকল্প পরিকল্পনাও করা হয়েছে। যদিও তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না নাগরিকরা। কামারহাটি পুরসভার নন্দননগরের বাসিন্দা শতদ্রু পাল, শ্যামল দত্ত বলেন, ‘পুরসভা সমাজ মাধ্যমে জল বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। এমনিতেই জল কম আসছিল। পানীয় জল কিনে খেতে হচ্ছিল। শুক্রবার সকালে পুরসভার জল না এলে স্নান ও রান্না নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে। তাই বড়ো বালতি সহ অন্যান্য পাত্রে বৃহস্পতিবার সকালেই জল ভরে রাখব ভাবছি।’ একই উদ্বেগ শোনা গিয়েছে বরানগর ও পানিহাটির একাধিক বাসিন্দার গলায়।
কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, ‘এমনিতে চার বেলা জল দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল, সন্ধ্যা ও পরদিন সকালে জল দিতে কিছুটা সমস্যা হবে। তাই আগে থেকে রিজার্ভার ভর্তি রাখা হচ্ছে। সবক’টি পাম্পও চালু রাখা হবে। এছাড়া কিছু এলাকায় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হবে।’ বরানগর পুরসভার সিআইসি(জল) অমর পাল বলেন, ‘জল না এলে কিছুটা সংকট তো হবেই। তবে আমাদের পুরসভায় আরও কয়েকটি প্রকল্প থেকে জল আসে। নিজস্ব পাম্পও রয়েছে। সেসব দিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা হবে।’ একই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে পানিহাটি ও উত্তর দমদম পুরসভাতেও।