Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহাষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে লাঠি, অস্ত্র নিয়ে জয়তারা উৎসবে মাতেন বাসিন্দারা

প্রাচীন রীতি মেনে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে বলিদানের পরেই ‘জয়তারা’ উৎসবে মেতে ওঠেন দুবরাজপুর শহরের বাসিন্দারা।

মহাষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে লাঠি, অস্ত্র নিয়ে জয়তারা উৎসবে মাতেন বাসিন্দারা
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া: প্রাচীন রীতি মেনে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে বলিদানের পরেই ‘জয়তারা’ উৎসবে মেতে ওঠেন দুবরাজপুর শহরের বাসিন্দারা। প্রতিবছর এই উৎসব দেখার জন্য দুবরাজপুর তো বটেই, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু লোকসমাগম ঘটে। শহরের বিভিন্ন সর্বজনীন পুজো থেকে বাড়ির পুজো, সবজায়গায় বলিদানের পরে বিভিন্ন বয়সের মানুষ অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে জয়ধ্বনি ও উল্লাসে মেতে ওঠেন। হাতে ত্রিশূল, দা, তরোয়াল, ঢাল, লাঠি নিয়ে শোভাযাত্রা করে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপ পরিক্রমা করেন। যা দেখতে ভিড় জমে যায় মণ্ডপে মণ্ডপে। 

Advertisement

সরকারি আইনজীবী তথা দুবরাজপুর শহরের বাসিন্দা মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, কথিত আছে, যখন অসুর ও দেবতাদের মধ্যে সংগ্রাম হয়। তখন অসুররা যুদ্ধে জয়লাভ করে একের পর এক জায়গা দখল করে। সে সময় সমস্ত শক্তি নিয়ে নারী শক্তি দেবীদুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। তারপরেই দেবী দুর্গা যুদ্ধের মাধ্যমে অসুরকে বধ করেছিলেন। তখন সমস্ত দেবতারা মায়ের উদ্দেশে স্ত্রুতি গেয়েছিলেন এবং জয়োল্লাস করেছিলেন। এখনও বিভিন্ন জায়গায় সেই ঘটনারই প্রতীক হিসেবে বীরত্বের প্রচার হয়ে আসছে। শুভশক্তির উদয় হল, অশুভ শক্তির নাশ হল। এই অসুর বধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আট থেকে ৮০ সবাই উল্লাসে মেতে ওঠেন। মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে বলিদানের ঠিক পরেই বেশকিছু মানুষ হাতে অস্তসস্ত্র সহ মুখে ‘জয়তারা’ ধ্বনি উচ্চারণে এক মণ্ডপ থেকে আর এক মণ্ডপ যান। পুজো কমিটিগুলি বার্তা দিতে থাকে, শুভ শক্তির উদয় হয়েছে, আসুন আমরা একত্রিত হয়ে সেই উৎসব পালন করি। 
প্রসঙ্গত, এই উৎসব দুবরাজপুর শহরের প্রায় ১০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে হয়ে আসছে। এছাড়াও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই ‘জয়তারা’ উৎসব চলাকালীন দুবরাজপুর শহরের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ