সংবাদদাতা, বনগাঁ: নিয়ম আছে নিয়মের মতো, কিন্তু মানা হচ্ছে না। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের সব সময়েই বনগাঁ শহরে চলছে পণ্যবোঝাই ট্রাক। এর ফলেই ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এক একটা দুর্ঘটনার পর কিছুদিনের জন্য টনক নড়ে প্রশাসনের। দু’দিন পর আবার যে কে সেই।
সংবাদদাতা, বনগাঁ: নিয়ম আছে নিয়মের মতো, কিন্তু মানা হচ্ছে না। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের সব সময়েই বনগাঁ শহরে চলছে পণ্যবোঝাই ট্রাক। এর ফলেই ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এক একটা দুর্ঘটনার পর কিছুদিনের জন্য টনক নড়ে প্রশাসনের। দু’দিন পর আবার যে কে সেই।
গত এক মাসে বনগাঁয় কয়েকটি পথ দুর্ঘটনার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন অনেকে। সোমবার রাতে পেট্রাপোল থানার ছয়ঘড়িয়া এলাকায় যশোর রোডে এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় খলিতপুর মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা মামণি পালের (৩৯)। এই মৃত্যুর পর একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন ওই মহিলার পরিবারের লোক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতার দেবর মৃত্যুঞ্জয় পাল বলেন, রাস্তায় নিয়ম মেনে লরি ছাড়া হোক। পুলিসই নো এন্ট্রি মানছে না। টাকা নিয়ে নো এন্ট্রি চলাকালীন গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, শহরে চলাচল করা লরির কোনওটিতেই খালাসি থাকে না। অনেক সময় খালাসি লরি চালিয়ে নিয়ে যান, চালক থাকেন না। আসলে অনেক ব্যবসায়ীর একাধিক গাড়ি থাকলেও নেই চালক। ফলে খালাসি দিয়েই গাড়ি চালাতে বাধ্য হন তারা। সোমবারের দুর্ঘটনার সময় লরিতে কোনও খালাসি ছিলেন না বলে জানান এলাকাবাসীরা। আর ছয়ঘড়িয়া পঞ্চায়েতের প্রধান উমা ঘোষ বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, যাতে রাত ১০টার পর লরি ছাড়া হয়।
সোমবার রাতে স্বামীর সঙ্গে বাইকে করে বনগাঁ যাওয়ার সময় একটি লরি ধাক্কা দিলে রাস্তায় পড়ে যান মামণিদেবী। তাঁর মাথার উপর দিয়ে লরি চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্বামী রাজু পালের (৪৫) মাথায় চোট লেগেছে। বাড়ির পাশেই বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ ছিল। দুই ছেলেকে নিয়ে বিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল পাল দম্পতির। তার আগে বিশেষ কাজে বনগাঁ যাচ্ছিলেন তাঁরা। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছেন রাজু পাল। তখনও মামণিদেবীর দেহ বাড়িতে আসেনি। সদ্য মা হারা ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছোট ছেলে কেঁদেই চলেছে। তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন বাবা। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের ভিড়। সকলেরই চোখে জল। পরিবারের সকলের একটাই দাবি, প্রশাসন সচেতন হোক। তবেই কমবে দুর্ঘটনা।-নিজস্ব চিত্র