সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: একসময় ধনতেরাসে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে জাঁকজমক ছিল। এখন এই বাংলার অন্যতম উৎসবের তালিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছে ধনতেরাস। বাদ যাচ্ছে না পূর্ব বর্ধমানও। কয়েক বছর ধরে এই জেলাতেও এই উৎসবের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই দিনে সোনা, রুপো বা নিদেনপক্ষে ইলেকট্রনিক্স কোনো সামগ্রী কেনার জন্য লাইনে দাঁড়ান জেলার বাসিন্দারা। কিছু না কিছু কেনা চাইই-চাই। সেইমতো পসরা সাজিয়ে রাখেন দোকান মালিকরা। সোনার ছোট কয়েন বা স্পেশাল গয়না তৈরি করে রেখেছেন অনেকে। রুপোরও অলঙ্কারও প্রস্তুত করা হয়েছে আগেই। কথিত রয়েছে, লক্ষ্মী এবং আরোগ্যের দেব ধন্বন্তরির জন্মতিথি এই দিন। ধন মানে সম্পত্তি। তেরস শব্দ এসেছে ত্রয়োদশী তিথি থেকে। বিশেষ এই দিনে নিজের ভাগ্য ফেরাতে মরিয়া থাকে বাঙালি। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা রাজীব ভৌমিক বলেন, বহু বছর ধরেই এই দিনে কিছু না কিছু কিনে আসছি। এই দিনটিকে আমরা শুভ বলেই ধরি। প্রতি বছর সোনা বা রুপোর অলঙ্কার কিনি এমনটা নয়, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীও কিনে আনি। শহরের আর এক বাসিন্দা শুভজিৎ চক্রবর্তী বলেন, আগে এই উৎসব নিয়ে তেমন মাথাব্যথা ছিল না। আমরা বাঙালিরা সারা বছর লক্ষ্মীর আরাধনা করি। অন্যান্য রাজ্যগুলিতে এই দিনে কেনাকাটার রেওয়াজ ছিল। এখন আমরাও সেই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছি। শুভ হবে ধরে নিয়েই কিছু না কিছু কিনি। সবার সোনা বা রুপোর অলঙ্কার কেনার সামর্থ থাকে না। তাঁরা অন্য কিছু কেনেন। পিতলের বাসনপত্রও কেনাও অনেকেই শুভ বলে মনে করেন। এছাড়া এদিন বাড়িতে কেউ কেউ লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি প্রতিস্থাপন করেন। বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পাশেই রয়েছে ধনেশ্বরী মহালক্ষ্মী। এই দিনে মা-কে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। অনেকেই মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। জেলার বাসিন্দারা বলছেন, নয়া প্রজন্মের হাত ধরেই এই দিনের কদর আরও বেড়ে গিয়েছে। তাঁরাও কেনাকাটার জন্য বিশেষ দিন বেছে নেন। সামর্থ্য অনুযায়ী ধাতু কেনেন। অনেকে এই দিনে বিশেষ ক্ষণ ধরে কেনাকাটা করেন। বর্ধমানের এক সোনার দোকানের মালিক বলেন, ক্রেতাদের চাহিদামতো ছোট ছোট কয়েন তৈরি করা হয়। আবার অনেক সময় অল্প সোনা দিয়ে ছোট গয়না তৈরি করা হয়। সোনা বা রুপোর দাম বাড়লেও রেওয়াজ মেনে অনেকেই তা কিনবেনই। তবে গত কয়েকদিনে সোনার দাম কিছুটা কমায় এবার ভাল ব্যবসা হবে বলে আশা করছি। জেলার বাসিন্দারা বলছেন, ওইদিন ধনসম্পদের অধিপতি কুবেরের আরাধনা করা হয়। পুরাণমতে, এই দিনে অমৃতকলস হাতে সমুদ্রমন্থনের সময় ধন্বন্তরির আর্বিভাব হয়েছিল। এই দিন ধন সম্পদের পাশাপাশি আরোগ্যও কামনা করা হয়। সব মিলিয়ে বিশেষ এই দিনের গুরুত্ব বাঙালির কাছে আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে।



