নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সোমবারই শেষ হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের সেমিস্টার পরীক্ষা। টেনশন মুক্ত হয়ে দুর্গাপুজোয় মেতে উঠেছে পড়ুয়ারা। প্রাকৃতির বিপর্যয়ের জন্য সব স্কুলেই ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে পড়ুয়া মহলে খুশির হাওয়া। অভিভাবকরাও যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। সবার মাথার উপর থেকে চিন্তার রেখা কাটলেও এখনও কপালে ভাঁজ দাদাদের। আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ তবু দাদার সেই ফুরফুরে মেজাজটা মিস করছেন অনুগামীরা। পুজোর মণ্ডপে আসছেন বটে কেমন যেন আনমনা। যেভাবে পুজোর আগে উদার হস্তে দান খয়রাতিতে নামতেন সেখানেও যেন লাগাম। শাসক দলের নেতাদের মন এখন মণ্ডপে নয় মোবাইলের স্ক্রিনে। ঘন ঘন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক পেজ দেখছেন।
কেন এই উৎকণ্ঠা? দলীয় সূত্রে খরব, নেতাগিরিরও তো রেজাল্টা বের হতে চলেছে। সব ঠিক থাকলে আজ বুধবারই পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি ব্লকের মহিলা, যুব ও শ্রমিক সংগঠনের সভাপতিদের নাম প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকাতেই নাম থাকবে তো উৎকণ্ঠায় ঘুম উঠেছে শাসক দলের নেতাদের। তাই কোন কিছুতেই যেন মন বসাতে পারছেন না। এই উৎকণ্ঠার ছবি রয়েছে কাঁকসা থেকে দুর্গাপুর, আসানসোল, সালানপুর সর্বত্র।
শাসক দলের ব্লক সভাপতিই হোক বা শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি এলাকায় প্রভাব থাকে প্রশ্নাতিত। একাধিক পুজো কমিটির মাথায় তারাই। কোন পুজোর তিনি চিফ পেট্রন তো কোন পুজোয় তিনিই সভাপতি। এতে নাকি পুজোর ফান্ড সংগ্রহ সহজ হয়। এছাড়া দক্ষিণপন্থি নেতাদের নিজের পুজো নিয়ে অন্য নেতার পুজোকে টেক্কা দেওয়ার এক প্রতিযোগিতা চলে। তাই পুজোর নেতা মশাই এক হাতেই প্রভাব কাটিয়ে সব সামলে নেন। এই সময়ে প্রিয় দাদাকে অনুগামীরাও একটু অন্য মেজাজে পায়। প্রাণখোলা দাদা সুযোগ বুঝে এলাকায় জনসংযোগটাও সেরে নেন। সেই সব দাদাদের অনেকেই এবার পুজোর আগে ম্রিয়মান। নেতাদের অনেক জ্বালা! টেনশন হবে কিন্তু বুঝতে দেওয়া চলবে না। তাই পুজো মণ্ডপে পাঞ্জাবী পরে তাঁরা এলেও মুখে মানসিক চাপের ছবি স্পষ্ট। চাপ বেড়েছে শাসক দলের ফেসবুক পেজ দেখেও। মূলত, দলের নেতা নেতৃত্ব ও বিধায়কদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি কলকাতায় মিটিং করছেন। তারপর দলনেত্রীর নির্দেশে তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর। সম সাময়িক বৈঠক হওয়া বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া হলেও পশ্চিম বর্ধমানের তালিকা প্রকাশ হয়নি। এমনকী পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানেরও তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। তাহলে কী শেষ মুহুর্তে বড় কোন রদবদলের জন্যই তালিকা প্রকাশে দেরি ঘনিষ্ট মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নেতারা।
শিল্পাঞ্চলের বেশ কিছু বিধায়কের সঙ্গে কিছু ব্লক সভাপতির সম্পর্ক অতি মধুর। নিন্দুকের এর পিছনে সেটিং তত্বও খুঁজে পান। বৈঠক তাঁরা নিজেদের পছন্দের ব্লক সভাপতিদের রাখার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছেন। যদিও তাতেও শীর্ষ নেতৃত্বর কাছ থেকে কোন অভয় বাণী আসেনি। তাই চাপে আছেন বিধায়করাও। ভোটের আগে পছন্দের ব্লক সভাপতি না পেলে যে তাঁর চেয়ার নিয়েও টানাটানি আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি তিনটি বিধানসভা বিজেপির দখলে। লোকসভা ভোটেরও বহু সাংগঠনিক ব্লকে দল পিছিয়ে আছে তা নিয়েও সবার নজর রয়েছে।