নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই দুঃসংবাদ। মঙ্গলবার কৃষিমন্ত্রক ফসল উৎপাদনের রিভিউ বৈঠক করে সতর্কবার্তা দিয়েছিল—চলতি মরশুমে এ পর্যন্ত ৪৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে চলেছে দেশের ৩১৫টি জেলার খরিফ উৎপাদনে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্বীকার করেছেন, ‘১২টি রাজ্যজুড়ে কম বৃষ্টি এবং তার জেরে খরিফ ফসল উৎপাদন মার খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ সেক্ষেত্রে খাদ্যশস্য বাজারজাত হওয়ার পরিমাণ নিশ্চিতভাবে কমে যাবে। অর্থাৎ দেশে খাদ্যশস্যের জোগান কমবে। চাহিদা বাড়বে। এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়বে দাম।
দ্বিতীয় দুঃসংবাদ একদিনের মধ্যেই। আশঙ্কার বৃহত্তর ছায়া এবার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার মন্তব্যে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জেরে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা কতটা সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেদিকে রিজার্ভ ব্যাংক নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে রেপো রেট কমানোর কোনো সম্ভাবনা এখনই আছে কি? এই প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে সঞ্জয় মালহোত্রা বুধবার বলেছেন, ‘রেপো রেট নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া অথবা পদক্ষেপ করার সময় আসেনি। কারণ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং কম বৃষ্টিপাতের যৌথ ধাক্কায় মূল্যবৃদ্ধির হার কোথায় যায়, সেটা আপাতত দেখতে হবে।’ অর্থাৎ ইঙ্গিত স্পষ্ট—মূল্যবৃদ্ধির আঁচ আরও বাড়বে। ঠিক এই কারণেই কোনো আশার বাণী শোনাননি গভর্নর। বরং বলেছেন, ‘আমরা এখন ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ অবস্থান নিয়েছি।’
রিজার্ভ ব্যাংক মনে করছে, মূল্যবৃদ্ধির হার চলতি আর্থিক বছরে ৫.১ শতাংশ হবে। কিন্তু তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সেটি প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, উৎসবের মরশুমে আকাশছোঁয়া হতে চলেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। মূল্যবৃদ্ধির আঁচ নিয়ে এদিন এক সাক্ষাৎকারে রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘আমরা এখন বস্তুত অর্থনীতির পূর্বাভাস নিয়ে সতর্ক রয়েছি। মূল্যবৃদ্ধি এবং জিডিপি বৃদ্ধিহার, দু’টি ক্ষেত্রেই যথেষ্ট ঝুঁকির পরিবেশ রয়েছে। সুতরাং এখনও স্পষ্ট কোনো অবস্থানের পরিস্থিতি নেই।’ সোজা কথায়, এদিন গভর্নর বুঝিয়ে দিয়েছেন পরবর্তী নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকেও রেপো রেট কমবে না। বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ। কিন্তু সেটি যে এরকমই থাকবে, তেমন পূর্বাভাস তিনি করতে নারাজ। বরং বলেছেন, ‘বৃষ্টিপাত এবং জ্বালানি দু’টিই অনিশ্চিত। অতএব মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এটা বলা যাবে না।’
নজর করার মতো বিষয় হল, রিজার্ভ ব্যাংক আর্থিক বৃদ্ধিহার নিয়েও দফায় দফায় নিজেদের পূর্বাভাস কমিয়ে চলেছে। বলা হয়েছিল, প্রায় ৭ শতাংশ হবে জিডিপি বৃদ্ধিহার। এরপর কমিয়ে বলা হয় ৬.৬ শতাংশ। এখন আরবিআই মনে করছে, অঙ্কটা দাঁড়াবে ৬.২ শতাংশে। সুতরাং, খাদ্য উৎপাদন কমবে। সেইসঙ্গে আরও মাথাব্যথার কারণ হল, জ্বালানির দামের ওঠাপড়া এবং বৃষ্টিপাত উদ্বেগজনকভাবে কম। সামগ্রিক যোগফল? মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্বল অর্থনীতির হাতছানি। অর্থ, কৃষিমন্ত্রক এবং নীতি আয়োগ উদ্বিগ্ন এই কারণেই।