নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্রমাগত কমেই চলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম। বৃহস্পতিবার তা ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলারে পৌঁছে গেল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরল এই দাম। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অয়েলের দাম যা ছিল, এখন তা ফের সেই স্তরে নেমে গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর অশোধিত তেলের দাম বাড়তে বাড়তে একসময় ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার জেরে বিগত কিছুদিন ধরেই নিম্নমুখী অশোধিত তেলের দর। এখন তা ৭২ ডলারে নেমে গিয়েছে। ফলে ভারতের তেল সংস্থাগুলির লোকসানও একধাক্কায় বহুগুণ কমে গিয়েছে। তেল বাণিজ্য সমীক্ষক সংস্থাগুলির হিসেবে যখন প্রতি ব্যারেলে ১০৫ ডলার দাম ছিল, সেই সময় তেল সংস্থাগুলির সম্মিলিত লোকসান হচ্ছিল দিনে ১৬০০
কোটি টাকা করে। ৮০ ডলারের
নীচে নেমে যাওয়া ও দেশীয় বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার যৌথ কারণে এক ধাক্কায় অন্তত ১৮০০ কোটি টাকার মোট লাভ হচ্ছে। ভরতুকি, শুল্ক ইত্যাদি মিটিয়েও মুনাফা থাকছে। প্রথম ত্রৈমাসিক সমাপ্ত হলে জানা যাবে নীট মুনাফার মোট পরিমাণ।
অশোধিত তেলের দামবৃদ্ধির পরও প্রথমে কিন্তু ভারত সরকারের তেল সংস্থাগুলি মার্চ এবং এপ্রিল মাসে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। সব তেল সংস্থা সম্মিলিতভাবে দৈনিক অন্তত ১৬০০ কোটি টাকা লোকসান করে গেলেও দাম বাড়েনি। বিরোধীদের দাবি ছিল, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের জেরেই এক্ষেত্রে লাগাম টেনে রেখেছিল কেন্দ্র। কিন্তু ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই দফায় দফায় পেট্রপণ্য থেকে এলপিজির দাম বাড়তে শুরু করে। মুদ্রাস্ফীতিতেও এর প্রভাব পড়ে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়ে দেয় তাদের পক্ষে আর রেপো রেট কমানো সম্ভব নয়। কারণ জ্বালানির দাম যেভাবে বেড়েছে, তার প্রেক্ষিতে মূল্যবৃদ্ধির হার সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এবং অবধারিতভাবে ঊর্ধগামী হবে। কিন্তু এরপরই নাটকীয় মোড় আসে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে। ইরান ও আমেরিকা আলোচনায় রাজি হয়। তারপরই অশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে।