নয়াদিল্লি: স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় গরমিল নিয়ে সারা দেশে বিতর্ক অব্যাহত। এই অবস্থায় কর্ণাটকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য বরাদ্দ ‘ফর্ম ৭’-এর অপব্যবহার করার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার এব্যাপারে জোরালো প্রমাণ তুলে ধরেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিয়মের তোয়াক্কা না করে ভোটকর্মীরাই ৬১ হাজার ৫৯টি ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে কোনো নাম বাদ দেওয়া বা কারও নামের অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি জানানোর জন্য সেটি ব্যবহার করা হয়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কর্ণাটকে ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়েছেন নির্বাচনি আধিকারিকরা। অথচ কী কারণে এই নাম বাদের আরজি জানানো হচ্ছে, তার উল্লেখ করা হয়নি। ১৯৬০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, নাম বাদের জন্য কারণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে অবশ্য তা না হওয়ার নেপথ্যে ‘অটো-জেনারেটেড ফর্ম ৭’কেই দায়ী করছেন ভোটকর্মীরা।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাজার হাজার প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিঁধতেও ছাড়েনি তারা। রাহুল গান্ধীর দলের সাফ কথা, ‘নির্বাচন কমিশনকে অপহরণ করে এভাবেই ভোট চুরি করেছে মোদি-জ্ঞানেশ জুটি।’ ওই প্রতিবেদনে কর্ণাটকের এসআইআরে গরমিলের বহু নমুনা তুলে ধরা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর ছিল ‘ফর্ম ৭’ জমা দেওয়ার ডেডলাইন। সেই সময়সীমার মধ্যে কেবলমাত্র ১৯২টি ‘ফর্ম ৭’ জমা পড়ে। আর ডেডলাইন পেরিয়ে যাওয়ার পর জমা পড়েছে ৬০ হাজার ৮০০টিরও বেশি ‘ফর্ম ৭’। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্তের শেষ দিন ছিল ২২ অক্টোবর। আর সেদিনই জমা পড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ‘ফর্ম ৭’। অন্তত ২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার বা তৃতীয় পক্ষের চেয়ে নির্বাচনি আধিকারিকরা বেশি ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়েছেন। ব্রুহাট বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকা দক্ষিণ জেলায় দাখিল করা ১৭ হাজার ৪৯১টি আবেদনের মধ্যে ১০ হাজার ৩৭৪টিই দিয়েছেন ভোটকর্মীরা, যা বেনজির।



