নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিতে যেসব গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল দপ্তর। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগ করা হয়। প্রথমে হাজার তিনেক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। পরবর্তীকালে ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তরে আরও নিয়োগ হয়। সেচদপ্তরে সব থেকে বেশি এই ধরনের নিয়োগ হয়েছিল। এখন সেচদপ্তরের যুগ্ম সচিব বিভিন্ন সার্কেল ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, নির্দিষ্ট প্রোফর্মায় চুক্তিতে নিযুক্ত কর্মীদের সম্পর্কে তথ্য পাঠাতে হবে। অন্যান্য দপ্তরের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
২০১১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ধরনের নিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিভিন্ন দপ্তরের গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়। সরাসরি দপ্তর বা এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগগুলি হয়। সেচদপ্তরের যুগ্ম সচিবের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছিল, সেই নিয়ম মেনে নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা জানাতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না, কাজের সময় খারাপ আচরণ, কাজে অবহেলা, অনুপস্থিতি খুব বেশি কি না, তাও জানাতে বলা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রবীণ নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে, যাচাই ইতিবাচক হলে এই কর্মীদের স্থায়ী পদে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। চুক্তিতে নিযুক্ত এই ধরনের কর্মীদের জন্য ৬০ বছর পর্যন্ত কাজের নিশ্চয়তা, বছরে ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, কিছু ছুটি, অবসরের পর এককালীন কিছু টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল গত সরকারই। কিন্তু স্থায়ী সরকারি কর্মীদের মতো সুযোগসুবিধা ও বেতন তাঁরা পান না।’



