নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব গভীরভাবে পড়তে চলেছে ভারতীয় উপকূলবর্তী অঞ্চলে। বেঙ্গালুরুর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাস্টেনেবিলিটির একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে এমন তথ্য। শুক্রবার বিকালে কলকাতা প্রেস ক্লাবে রিপোর্টটি পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনু গোস্বামী। রিপোর্টে প্রকাশ, আগামী ১৫ বছরে অর্থাত্ ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে চলেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের ৪০ জেলায় গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। কলকাতা শহরের কথাও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। কলকাতার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা হতে পারে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিদিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। শীতকালে ১১ ডিগ্রির কাছাকাছি ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি স্পর্শ করতে পারে। এছাড়া কলকাতায় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৩১ মিলিমিটার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬৩১ মিলিমিটার হতে পারে। এর পাশাপাশি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে আপেক্ষিক আর্দ্রতাও। সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ ধরা পড়েছে। রিপোর্টে প্রকাশ, উপকূলবর্তী জেলার মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ুর গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে অস্বাভাবিক হারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপও অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব পড়বে। শান্তনুবাবু বলেন, ‘১ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব অনেক। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভারতকে হটস্পট বলা চলে। কারণ এই মুহূর্তে দেশে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ দ্রুততার সঙ্গে হচ্ছে।’



