সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: মধ্যবিত্তের চিরাচরিত সঞ্চয় প্রবণতা ফিরছে? অর্থাৎ আধুনিক স্মার্ট এবং যুগোপযোগী হতে গিয়ে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাঙ্কে টাকা জমানোর পথ ছেড়েছিল মধ্যবিত্ত। ঝাঁপিয়েছিল শেয়ার কেনাবেচা, মিউচুয়াল ফান্ড কিংবা ফ্ল্যাট কিনে কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চহারে মুনাফার প্রলোভনের দিকে। সেই পথ থেকেই এবার সরে আসছে তারা। আর ‘নতুন উদ্যমে’ ঝুঁকছে চিরাচরিত ফিক্সড ডিপোজিটে। কারণ? প্রথমত, শেয়ার বাজারে লাগাতার ধস। দ্বিতীয়ত, আগামী নীতি নির্ধারক বৈঠকেও রেপো রেট কমানোর ব্যাপারে ইঙ্গিত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। অর্থাৎ, ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হারও কমবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষ্য করা গিয়েছিল, এফডি’তে জমানোর প্রবণতা গত বছরের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে সেই প্রবণতা হঠাৎই এক ধাক্কায় আরও বাড়ছে। কেন? এখনই বার্তা পাওয়া যাচ্ছে, এপ্রিল মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমতে শুরু করবে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কের থেকেই এই আভাস পাচ্ছে অর্থনৈতিক মহল। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেই হতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠক। অর্থনৈতিক মহলের অভিমত ও আর্থিক সমীক্ষক সংস্থাগুলির পূর্বাভাস—আবার অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমতে চলেছে রেপো রেট। ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে যাওয়া নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকে একবার কমানো হয়েছে রেপো। প্রায় আড়াই বছর ধরে ক্রমাগত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রেপো রেট এই প্রথম সামান্য হলেও কমল। সঞ্জয় মালহোত্রা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদে আসীন হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত। এপ্রিলে আবার সেই হার কমানোর সম্ভাবনা প্রবল। তিনি নিজেই সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। সাধারণ নিয়মই হল, রেপো রেট কমানো হলে কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাঙ্কগুলি জমা আমানতে সুদের হারও কমিয়ে দেয়। সঙ্গে কমে ঋণের উপর সুদের হার। অর্থাৎ, কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে, আবার ডিপোজিটেও বেশি সুদ প্রদান করা হবে—গ্রাহকদের এই দ্বিগুণ সুবিধা দেওয়া হয় না। পূর্ববর্তী রেপো রেট কমানোর পর প্রায় দু’মাস কেটে যাচ্ছে, এখনও সরাসরি ডিপোজিটে সুদের হার খুব বেশি ব্যাঙ্ক কমায়নি। কিন্তু তারা গ্রাহকদের জানিয়ে দিচ্ছে, যা করার ৩১ মার্চের মধ্যে করুন। মানেটা স্পষ্ট, এপ্রিলের শুরুতে এফডি’তে সুদের হার কমানোর জন্য সব ব্যাঙ্ক তৈরি। আর একবার রেপো রেট কমার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয়ে তারা ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমাতে শুরু করবে।
আর ঠিক এই কারণেই তড়িঘড়ি ফিক্সড ডিপোজিটে ঝাঁপিয়েছে মধ্যবিত্ত। আপাতত বেশি সুদের সুবিধা তুলে নিতে। বর্তমান সুদের হারে দ্রুত বেশি বেশি ডিপোজিট করে ফেলতে চাইছে তারা। তাহলে ম্যাচিওরড অর্থ বেশি পাওয়া যাবে। আর এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাঙ্কগুলি মনে করছে, ১১ শতাংশের বেশি ছাড়িয়ে যাবে ডিপোজিটের বৃদ্ধিহার। সেটা কিন্তু ঋণপ্রদানের হারকেও (১১.৭০ শতাংশ) ছাপিয়ে যেতে পারে। আর মধ্যবিত্তের টাকা ব্যাঙ্কে আসার অর্থ? ব্যাঙ্কের স্বাস্থ্য ভালো হবে এবং বাড়বে ঋণদান ক্ষমতা।