সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার নবদ্বীপ ব্লকের বাবলারি পঞ্চায়েতের নিতাই নগরের অকেজো সোলার সজলধারা প্রকল্পের মেরামতির কাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে জলকষ্টের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে নিতাই নগর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় দু’শোর বেশি পরিবার। গত ২৮ মে ‘বর্তমান’-এ ওইসব এলাকার তীব্র পানীয় জল সংকটের খবর প্রকাশিত হয়। তার জেরে নিতাই নগরের সৌরশক্তি চালিত অকেজো সজলধারা প্রকল্পটি এবার মেরামত হল। জানা গিয়েছে, বাবলারি পঞ্চায়েতের নিতাই নগরের সোলার সজলধারা প্রকল্পটি প্রায় দু’বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়েছিল। তবে, ওইসব এলাকার মধ্যে নিতাই নগরের বাসিন্দারা আগে সরকারি কলের জল পেতেন, কিন্তু এখন তা সরবরাহ হয় না। তাছাড়া, মিলন নগর ও প্রাণগোপাল নগরে এখনও পর্যন্ত সরকারি কলের জল পৌঁছায়নি। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে কয়েক বছর আগে স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি মেনে সৌরশক্তি চালিত সজল ধারা প্রকল্পটি চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিও প্রায় দু’বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ, স্থানীয়রা সেটি মেরামতির জন্য একাধিকবার পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিকে জানালেও কোনো সুরাহা হচ্ছিল না।
বাবলারি পঞ্চায়েতের নিতাই নগরে তিনমাথার মোড়ে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের(টাইড) মাধ্যমে সৌরশক্তি চালিত সজলধারা প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন মেরামতি না হওয়ায় প্রকল্পটি বনজঙ্গলে ঢেকে গিয়েছিল। ওই এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাকে বাধ্য হয়ে কেনা জলের উপর ভরসা করতে হয়। অনেকের কাছে আবার বাড়ির কিংবা রাস্তার টিউবওয়েলের জলই ভরসা। তবে, সেই জলে গৃহস্থালির কাজকর্ম করা গেলেও তা পানের অযোগ্য। কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী পুরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ট্যাপকল থেকেও জল নিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় নিতাই নগরের বাসিন্দা গৃহবধূ সবিতা সরকার ও বৃদ্ধা দেবু বৈরাগ্য বলেন, প্রথমদিকে জল সরবরাহ ভাল হত। তবে, পরবর্তীতে প্রায় দু’বছর ধরে সজলধারা প্রকল্পটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য কৃষ্ণরঞ্জন শর্মা বলেন, জলের ব্যাপারে বারবার পঞ্চায়েত ও ব্লকে জানিয়েছি। আমার কাছে এসে স্থানীয় বাসিন্দারা পানীয় জলের জন্য চোখের জল ফেলেছেন।
বাবলারি পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ কর্মকার বলেন, প্রায় ন’বছর আগে নিতাই নগরের এই সজলধারা প্রকল্পটি তৈরি করা হয়। উমপুনের ঝড়ের দাপটে এটি খারাপ হয়ে যায়। এবিষয়ে আমরা ব্লকে বারবার জানিয়েছি। অবশেষে পঞ্চায়েত সমিতির তরফে এটি সারানো হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা
উপকৃত হলেন। রামচন্দ্রপুরের সজলধারাটিও পঞ্চায়েত সমিতি খুব শীঘ্রই সারাবে। -নিজস্ব চিত্র