Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধায়কের উপস্থিতিতেই বৈঠক, মাসিক পাঁচ লক্ষ টাকায় বরানগর হাসপাতাল ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত

বিধায়কের উপস্থিতিতেই বৈঠক, মাসিক পাঁচ লক্ষ টাকায় বরানগর হাসপাতাল ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১৭:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মাসিক ২৫ হাজার টাকায় বরানগর হাসপাতালের বিপুল জায়গা একটি বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। নতুন করে চুক্তি পুনর্নবীকরণের সময় তা নিয়ে বিস্তর হইচই হয়। পুরসভার সিআইসিদের দাবি, মাসে ১০ লক্ষ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সিআইসি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। তাতে  মাসিক পাঁচ লক্ষ টাকা ভাড়া স্থির হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই খাতে ভাড়া বাবদ পুরসভার বাৎসরিক আয় তিন লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৬০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ আয় বাড়ছে প্রায় ২০ গুণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে বরানগর পুরসভার মাতৃসদনের একাংশ এক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। মাসিক ২৫ হাজার ১০১ টাকা ভাড়া স্থির হয়েছিল। ওই টাকায় পাঁচ বছর ওই বেসরকারি হাসপাতাল চলেছিল। ২০২৫ সালে নতুন করে চুক্তির সময় আসতেই ফের বিতর্ক শুরু হয়। এত কম টাকায় কেন ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কাউন্সিলারদের একাংশ। এমনকী, চুক্তির বাইরে গিয়ে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক বেশি জায়গা দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপর একাধিকবার পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতিতে মাপজোক করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি পুরসভার স্পেশাল সিআইসি মিটিং হয়। তাতে স্থির হয়েছিল, ওই বেসরকারি সংস্থার থেকে প্রতি বর্গফুটে ৭০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হবে। ওই সংস্থা হাসপাতালের ২০ হাজার ৫৫১ বর্গফুট ব্যবহার করছে। এছাড়াও সংস্থার থেকে পার্কিং ফি, জেনারেটর ব্যবহারের ফি নেওয়া হবে। বর্গফুট অনুযায়ী মাসিক ভাড়া প্রত্যেক বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। ওই সংস্থাকেও সিদ্ধান্তের কপি পাঠানো হয়েছিল।

Advertisement

পুরসভা সূত্রের খবর, ভাড়া কমানো নিয়ে বিভিন্ন স্তরে তদ্বির করে ওই সংস্থা। শেষপর্যন্ত বুধবার বিকেলে পুরসভার মিটিং হলে বৈঠক হয়। সেখানে বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিক, ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসু, সিআইসি সদস্য রামকৃষ্ণ পাল, অঞ্জন পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তপক্ষের প্রতিনিধিরাও। বর্গফুট পিছু ৭০ টাকা হলে মাসে ভাড়া দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ টাকা। সেই জায়গায় অঞ্জনবাবু ও রামকৃষ্ণবাবু মাসিক ১০ লক্ষ টাকার দাবি জানান। শেষপর্যন্ত বিধায়কের হস্তক্ষেপে মাসিক ভাড়া পাঁচ লক্ষ টাকা চূড়ান্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক কাউন্সিলার দাবি করেছেন, গত পাঁচ বছর জলের দরে হাসপাতালের জায়গা ভাড়া দিয়ে কারা কত লাভ পেয়েছেন, তা প্রকাশ্যে আনা দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ