নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নদের (নদীয়া) নিমাইয়ের নামেই নামকরণ হয়েছিল নিমাইতীর্থ ঘাটের। জনশ্রুতি, এই ঘাটে এসেছিলেন নিমাই নিজেও। তিনি ঘাটে নেমে গঙ্গাস্নান করেছিলেন, দোকান থেকে মিষ্টি কিনেও খেয়েছিলেন। সেই থেকে হুগলির বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট অন্যতম পুণ্যস্থল। তারকেশ্বর ধামগামী পুণ্যার্থীরা এই ঘাট থেকেই জল নিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে এই ঘাট সংস্কারের অভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে এখানে। এবার এই ঘাট সংস্কারের কাজে নামছে বৈদ্যবাটি পুরসভা। সম্প্রতি এই কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। এই টাকা দিয়েই হবে প্রথম দফার কাজ। সামগ্রিক প্রকল্পের জন্য সরকার মোট ২.৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। ঘাট সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় পুণ্যার্থী মহল উল্লসিত।
খুশি বৈদ্যবাটি পুরসভা। দীর্ঘদিন ধরে ঘাট সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আবেদনের পাশাপাশি ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্যে সেই ক্ষোভ প্রশমিত করার সুযোগ পেয়েছেন পুরকর্তারা। এনিয়ে বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাত বলেন, হুগলির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ঘাট হল নিমাইতীর্থ। সারা বছর পুণ্যার্থীরা আসেন এখানে। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঘাটে আসা যাওয়া করেন। তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলার সময় পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। একদিকে ঐতিহ্য রক্ষা, অন্যদিকে নাগরিকদের নিরাপত্তা, দু’টি কারণেই ঘাট সংস্কার করা জরুরি ছিল। প্রথম দফায় আমরা সংস্কারের জন্য টাকা পেয়েছি। সেই কাজ শুরু হয়েছে। শ্রাবণী মেলার আগে সংস্কারের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হুগলির ধনেখালির বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, আমাদের সরকার নাগরিকদের সব রকম সুবিধার কথা ভাবে। সেকারণে ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় ভাবাবেগকেও সরকার সম্মান করে। বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট সংস্কার একটি সময়োচিত সিদ্ধান্ত। সঠিক সময়ে বিষয়টি রাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য স্থানীয় পুরসভাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
নদের নিমাই তথা চৈতন্য মহাপ্রভুর পদধূলি শুধু নিমাইতীর্থ ঘাটে পড়েছিল, তা নয়। গঙ্গার ওই ঘাট ইতিহাস সমৃদ্ধ। বাংলার একাধিক মঙ্গল কাব্যে স্থান পেয়েছে বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট। জনশ্রুতি, স্বয়ং মা সারদা একাধিকবার ওই ঘাট থেকে নদীপথে দক্ষিণেশ্বরে গিয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় সেসবের উল্লেখ নেই। তবে ইতিহাস সাক্ষী, একাধিকবার এই ঘাট সংস্কার হয়েছিল রাজ-রাজড়াদের আমলে। এই ঘাট তৈরি করেছিলেন শেওড়াফুলির রাজা হরিশচন্দ্র। পরবর্তী সময়ে
চন্দননগরের এক সম্পন্ন ব্যক্তি নিমাইতীর্থ ঘাট সংস্কার করেন। বহু বছর পরে এই প্রথম সার্বিক সংস্কারের কাজে নেমেছে বৈদ্যবাটি পুরসভা। যা দেখে খুশি পুণ্যার্থী থেকে আম জনতা।-নিজস্ব চিত্র