নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রক্সি হল সংস্কারের কাজ গতবছর থেকে শুরু হলেও চলতি বছরের প্রথম দিকে সেই কাজ আরও গতি পায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুনভাবে সাজিয়ে চলতি বছরেই নয়া রূপে আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ৪৫০ আসন বিশিষ্ট প্রেক্ষাগৃহটির। কিন্তু, পালাবদলের পর চালু কাজ খেই হারিয়েছে। অভিযোগ, সংস্কারের কাজে আগের আমলের বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ছে না কলকাতা পুরসভার নয়া কর্তৃপক্ষ। ফলে, ঠিকাদাররা পেমেন্ট পাচ্ছিলেন না। তার জেরে প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে রক্সি সংস্কারের কাজ।
রক্সিকে সাজিয়ে তোলার কাজে পুরসভার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে আবাসন নির্মাণকারী সংস্থাদের সংগঠন কনফেডারেশন অব রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনস অব ইন্ডিয়া (ক্রেডাই)। হলটি মেরামত ও পুনরুদ্ধার করতে প্রাথমিকভাবে ১০-১১ কোটি টাকা খরচ হিসাবে ধরা হয়েছিল। রক্সিকে আধুনিক অডিটোরিয়ামে রূপান্তরিত করার জন্য ক্রেডাই পাঁচ কোটি টাকা খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাকি পরিকাঠামোর উন্নতিতে কয়েক কোটি টাকা খরচ করবে পুরসভা। সেইমতো কাজও শুরু হয়। তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম রক্সি সংস্কারের জন্য পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চার কোটি টাকা বরাদ্দ পায়। তার মধ্যে তিন কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি এক কোটি টাকার কাজ প্রায় হয়ে গেলেও পরিবর্তিত পুর কর্তৃপক্ষ টাকা দিচ্ছে না। ফাইল আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, পুরসভার আলোক বিভাগ তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজ হাতে নিয়েছিল। সেই কাজেরও টাকা মিলছে না।
আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অনেকটাই করে ফেলেছে। সম্মুখভাগ ও ভিতরের কিছু অংশ মেরামত এবং রং করার কাজ পুরসভার। ক্রেডাই এই অডিটোরিয়াম এবং সংলগ্ন এলাকাকে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে সাজাচ্ছে। ক্রেডাইও অনেকটা কাজ শেষ করে দিয়েছিল। বাকি কাজ আলোক বিভাগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতে হবে। কিন্তু লাইটিং ডিপার্টমেন্ট বরাদ্দ না মেলায় কাজ করতে পারছে না। নয়া পুর কর্তৃপক্ষ আগের টাকা ছাড়ছে না। আবার নতুন কাজের অনুমোদনও দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আমরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।
শোনা যাচ্ছে, এখন ক্রেডাই টাকা ইনভেস্ট করেও কাজ করতে পারছে না। অভিযোগ, দীর্ঘদিন পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও লাভ হয়নি। অবশেষে ক্রেডাইয়ের অনুরোধে কয়েক সপ্তাহ আগে পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে রক্সি দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও টাকা ছাড়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নতুন কাজের অনুমোদন মিলছে না। এই অবস্থায় আজ, বুধবার রক্সি সংস্কারের বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা।



