নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের কাজ চলছে। এখন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেরামত শেষে ইএম বাইপাসের বাঘাযতীন সেতু শক্তপোক্ত হবে। সেতুর দু’দিকে লোহার কাঠামো তৈরি করে সংস্কার কাজ হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দশকের জন্য ব্রিজের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হতে হবে না বলে দাবি। দ্রুত কাজ শেষ হবে বলেও জানিয়েছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)।
মাঝেরহাটে সেতু ভেঙে পড়ার পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে রাজ্য। পরীক্ষার পর দেখা গিয়েছে, কেএমডিএ’র হাতে থাকা বাঘাযতীন সেতু এবং চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের হাল ভালো নয়। এই দুই সেতু ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাবও উঠেছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেছে প্রশাসন। তারপর মেট্রোপলিটন ফ্লাইওভার তৈরির তোড়জোড় হয়। তা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বাঘা যতীনের সেতুটি ভেঙে নতুন করে তৈরির পরিস্থিতি নেই। এবং সেটি বন্ধ রেখে সংস্কারের কাজও সম্ভব নয়। ব্রিজটি ইএম বাইপাসকে সাদার্ন বাইপাসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। নীচ দিয়ে গিয়েছে রেললাইন, রয়েছে রেলগেট। সেখান দিয়ে নিয়মিত ভারী যানবাহন কিংবা গণপরিবহন চালানো সম্ভব নয়। এই অবস্থায় সেতু বন্ধ না করেই তার কর্মক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করে কেএমডিএ। ব্রিজের নীচে দু’দিকে বসানো হয়েছে লোহার স্তম্ভ। প্রায় ৫০০ মিটার লম্বা সেতুতে ২২টি লোহার বিম দেওয়া হয়েছে। এভাবে ভারবহণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কেএমডিএ’র এক আধিকারিক বলেন, সেতু বন্ধ না করে এই রেট্রোফিটিংয়ের কাজ হয়েছে। কারণ বাঘাযতীন সেতু বন্ধ করলে কলকাতার দক্ষিণ বা সংযুক্ত অঞ্চলের পাশাপাশি সোনারপুর-রাজপুর সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশের যোগাযোগ বিঘ্নিত হতো। যান নিয়ন্ত্রণ কিংবা যানবাহনের অভিমুখ বদল করা সম্ভব ছিল না। তাই সতর্কতার সঙ্গে সেতু চালু রেখেই কাঠামো দৃঢ় করার কাজ হচ্ছে। ব্রিজের নীচের অংশে লোহার মোটা পাত বসানো হয়েছে। মাটিতে কংক্রিটের বেদী তৈরি করে সেখান থেকে লোহার বিম তুলে সেই পাতের সঙ্গে জুড়ে ঠেকনা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়েছিল। তা প্রায় শেষের পথে। সংস্কারের পর আগামী ৩০ বছর কর্মক্ষমতা অক্ষত থাকবে।
১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বলেন, এই ব্রিজ সংস্কার হওয়া খুব জরুরি ছিল। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সহযোগিতায় সেটা হচ্ছে। কিন্তু, সেতুর উপরিভাগে বাতিস্তম্ভের অনেকগুলিই সঠিক ভাবে জ্বলে না। সেই বিষয়েও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। -নিজস্ব চিত্র