সংবাদদাতা, বজবজ: মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ এবং মহেশতলার ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকরা বর্ষার নাম শুনলেই প্রমাদ গোনেন। কারণ, মহেশতলা পুরসভার ওই ক’টি ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থার অন্যতম নিউ মণিখালের একটি বিশেষ অংশ গার্ডেনরিচ ওয়াটার ওয়ার্কস থেকে বের হওয়া হলুদ বর্জ্য জমে নাব্যতা হারিয়েছে। তাতে বর্ষায় জমা জলে ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলি, বাড়ির উঠোন প্লাবিত হয়ে যায়। ওই দশটি ওয়ার্ড ছাড়াও টানা চার থেকে পাঁচদিন সেই জলে ডুবে থাকে মেটিয়াবুরুজ এবং গার্ডেনরিচের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষার আতঙ্কে রাতের ঘুম উবে গিয়েছে হাজার হাজার বাসিন্দার। এই পরিস্থিতিতে নিউ মণিখাল সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
এনিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মহেশতলা ও মেটিয়াবুরুজের দু’ই বিধায়ক তৎপর হন। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি বলার পর সেচদপ্তর সক্রিয় হয়। ঠিক হয়েছে ৬, ৭, ৯— তিনটি ওয়ার্ডের ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের গভীরতা বাড়ানো হবে। খালের মাটি রাখার জন্য পুরসভার উলুডাঙাতে জায়গা নিদির্ষ্ট হয়েছে। মহেশতলা বিধানসভার বিধায়ক ও পুর চেয়ারম্যান দুলাল দাসের দাবি, মানুষের যন্ত্রণার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সেচদপ্তর এই কাজের সূচনা করেছে গত সোমবার। ওইদিন মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল তাপস হালদার ছাড়াও ভুক্তেভোগী ওয়ার্ডের একাধিক কাউন্সিলার হাজির ছিলেন। আপাতত জেসিপি ও মাটি কাটার যন্ত্র নামানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের ভিতর জোর কদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে।
কলকাতা পুরসভার বেহালা অঞ্চলের একাধিক ওয়ার্ডের ভিতর দিয়ে নিউ মণিখাল প্রবাহিত হয়ে মহেশতলার ১৬, ১৭ দু’টি ওয়ার্ড ছাড়াও ১ থেকে ১০ নম্বরের ভিতর দিয়ে গিয়ে গঙ্গায় মিশছে। এই খালের সঙ্গে মেটিয়াবুরুজ ও গার্ডেনরিচের নিকাশি জলও বের হয়। ৬, ৭, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিউ মণিখালের বেশির ভাগ অংশ অবরুদ্ধ। কারণ, এই অঞ্চলে গার্ডেনরিচ ওয়াটার ওয়ার্কসের হলুদ রঙের বর্জ্য-মাটি পাইপ বেয়ে খালে পড়ে জল যাওয়ার গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে। সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা আশ্বস্ত বাসিন্দারা।