নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিন টালবাহানা চলছিল। হাইকোর্টে মামলা হয়। মাঝে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও ফের যে কে সেই অবস্থা। ধর্মতলায় গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের ফুটপাত থেকে সরানো যায়নি হকার। ফলে হোটেল সংস্কারের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় কলকাতা পুরসভাকে উদ্যোগী হতে আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল হোটেল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে সমাধান সূত্র মিলেছে। সিদ্ধান্ত, সব হকারকে একসঙ্গে সরিয়ে সংস্কারের কাজ হবে না। তিন থেকে চার ধাপে কাজ হবে। সেই অনুযায়ী হকারদের সঙ্গে কথা বলে অস্থায়ীভাবে ধাপে ধাপে হকারদের সরানো হবে গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের ফুটপাত থেকে। তেমনটাই বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভায় টাউন ভেন্ডিং কমিটির (টিভিসি) বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন হকার পুনর্বাসন সংক্রান্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, টিভিসির কো-চেয়ারম্যান স্বপন সমাদ্দার সহ পুরসভার আধিকারিক এবং বিভিন্ন হকার কমিটির সদস্যরা। অন্যদিকে, এদিন আটজন হকারের হাতে ইউনিক আইডি নম্বর যুক্ত ভেন্ডিং সার্টিফিকেট বা হকার শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিশেষভাবে তৈরি এই শংসাপত্রে কিউআর কোড দেওয়া রয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরেই গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের ফুটপাতে হকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে মামলা করে। যার জেরে বছর দেড়েক আগে পুরসভা, পুলিশ এবং টিভিসি অভিযান চালায়। হোটেলের সামনের ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে হকারদের বসানোর ব্যবস্থা হয়। কিন্তু সরকারি তৎপরতা কমে যাওয়ায় ফের যে কে সেই অবস্থা! ইতিমধ্যেই হোটেল সংস্কারের কাজ শুরু করেছে গ্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সামনের ফুটপাত থেকে হকার সরানো যাচ্ছে না। প্রথমে হোটেল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সামনের ফুটপাত থেকে সমস্ত হকার সরিয়ে হোটেলের সংস্কার হবে। কিন্তু আদালতে গিয়েও তা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে হোটেল কর্তৃপক্ষ ফের পুরসভাকে আর্জি জানায়। বিষয়টি নিয়ে এদিন টিভিসি বৈঠকে আলোচনা হয়। সেখানে হোটেলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা হয়, এক থেকে দেড় বছর ধরে সংস্কারের জেরে হোটেলের সামনের ফুটপাত থেকে হকারদের সরানো সম্ভব নয়। কারণ এতে তাদের রুটি-রুজির প্রশ্ন জড়িত। টিভিসির সদস্য এক পুরকর্তা বলেন, আমরা হোটেলের প্রতিনিধিকে জানিয়েছি, গোটা বছরের জন্য হকার সরানো সম্ভব নয়। ওঁরাও রাজি হয়েছেন। ঠিক হয়েছে তিন থেকে চার ধাপে সংস্কারের কাজ হবে। যতটুকু জায়গা সংস্কার হবে, ততটুকু জায়গা হকারদের খালি করতে হবে। প্রতি ধাপে দেড় থেকে দু’মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় বসা হকারদের সরাতে হবে।
পাশাপাশি এদিন আট হকারের হাতে বিশেষ ধরনের হকার শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পুরসভার এক শীর্ষকর্তা জানান, রাজ্যের আইটি দপ্তর এই শংসাপত্র ডিজাইন করেছে। ইউনিক আইডি সম্বলিত এই শংসাপত্র জাল করা প্রায় অসম্ভব। কিউবার কোড দেওয়া রয়েছে। প্রয়োজনে স্ক্যান করলে সংশ্লিষ্ট হকারের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে ডালা হস্তান্তর করা বা বিক্রি করা সম্ভব নয়। যিনি হকার তাঁকেই ব্যবসা করতে হবে। এই শংসাপত্রের সঙ্গে বিভিন্ন পরিচয়পত্র লিংক করে দেওয়া হয়েছে। যাতে অবৈধ কাজ আটকানো যায়। আগামী দিনে যেমন আবেদন আসবে, তেমন ধাপে ধাপে শংসাপত্র দেওয়া হবে।