নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্রমাগত নিজেদের পরিবর্তন করে চলেছে লস্কর এবং জয়েশ জঙ্গি সংগঠন। একটা সময় ‘জেহাদে মিলবে জন্নত’ এই মগজ ধোলাই করে কিশোর যুবকদের নিয়োগ করে ভারতে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। তৈরি হয়েছে ফিঁদায়ে বাহিনী। প্রাণের মায়া না করে আগুপিছু না ভেবে গণহত্যাকেই জন্নতে যাওয়ার ছাড়পত্র ভেবে সাধারণ মানুষ অথবা সেনাকর্মীদের হত্যা করেছে। সেই বাহিনী এখন অতীত। পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকার সন্ত্রাসের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানতে পারছে, সেনা কনভয়ে হামলা করা, ভাইটাল ইনস্টলেশন উড়িয়ে দেওয়া, হাই সিকিওরিটি জোনে প্রবেশ করে হামলা চালানোর ঝুঁকি না নিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা অনেক সহজ। ঝুঁকিবিহীনও। পাশাপাশি প্রভাব অনেক বেশি। কারণ প্রতিরোধ বা এনকাউন্টার হবে না। বরং নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে অনায়াসে হত্যা করে অবাধে পালানো যাবে। তাই গোয়েন্দারা জানতে পারছে, লস্কর ও জয়েশের নতুন স্ট্র্যাটেজি হল, ‘হিট অ্যান্ড রান’। ঠিক সেটাই হয়েছে পহেলগাঁওয়ে। গোয়েন্দারা তদন্তে জানতে পেরেছে, রীতিমতো তালিকা করা হয়েছে, কোথায় কোথায় পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হবে। কারণ ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে পাকিস্তান থেকে আসার পর হাশিম মুসা এবং আবু ভাই লোকাল স্লিপার সেল রিক্রুট করে তাদের উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কাশ্মীরে পাঠিয়েছে। একটি করে টুরিস্ট স্পটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দু’জন করে জঙ্গিকে। কাশ্মীর পুলিস এবং এনআইএ এখন জানতে তৎপর যে,পাইপলাইনে আর কোন কোন স্পট ছিল অথবা আছে।
পহেলগাঁওয়ে সাধারণ মানুষ যে প্রথম সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে এমন নয়। কিন্তু এই প্রথম পহেলগাঁওয়েরয় এমন ট্যুরিস্ট স্পট বাছাই করা হয়েছে যেখানে সিকিওরিটি বাহিনীর পৌঁছতে অন্তত ১ ঘণ্টা সময় লাগবে। বেশ কয়েকবার দেখে যাওয়ার পরই বাছাই করা হয়েছিল ২২ এপ্রিলকে।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, আত্মঘাতী বাহিনীতে আর যোগ দিতে চাইছে না যুবকরা। নিজের প্রাণ দিয়ে জন্নত যাওয়ার আকুলতা কমছে। নিরাপদে গণহত্যা করে অবাধে পালানোর প্ল্যানই বেশি পছন্দ নতুনদের। তাই জঙ্গি সংগঠনগুলি তাদের প্ল্যান পাল্টে ফেলেছে। এমনও জানা যাচ্ছে যে, নিছক ইসলামের নামে আর পাঠানো যাচ্ছে না অপারেশনে।। এখন টাকাও দিতে হচ্ছে। প্রফেশনাল জঙ্গিদের উপরই বেশি ভরসা করতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আরবাজ মীর এবং জুনেইদ আহমেদ ভাট নামক দুই জঙ্গিকে এনকাউন্টারে হত্যার পর কাশ্মীর রাজ্য পুলিশ জেনেছে এরা ছিল ভাড়াটে জঙ্গি।



