নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: শরৎ এসে গিয়েছে ব্রিটেনে। আর ব্রিটেনও তৈরি পুজোর ঢাকের আওয়াজে মাতোয়ারা হতে। দেশের কমিউনিটি হল বা অন্যান্য পুজোস্থলগুলিতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে স্মৃতির রোমন্থন। প্রবাসেও দেশে থাকার পূর্ণ স্বাদ আস্বাদন। মা দুর্গার আগমনী উপলক্ষ্যে পুজো সংস্থাগুলি এখন সকলের জন্য অবারিত দ্বারের ব্যবস্থা করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্রিটেনে এখন প্রায় ৯০টি পুজো হয়। প্রতি বছরই পুজোর সংখ্যা বাড়ছে। স্ত্রী দেবাঞ্জলিকে নিয়ে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক অরিন্দম তৈরি করেছেন ‘বিগ বং কানেকশন লন্ডন’ নামের একটি গ্রুপ। ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পশ্চিম লন্ডনের চিজিকে তাঁরা নতুন এক পুজোর আয়োজন করেছেন। নাম—‘আবাহন’। ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটা থেকে তাঁদের উদ্যোগে ৪৫ মিনিটের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অরিন্দম বলেন, ‘মাতৃ আরাধনা উপলক্ষ্যে উদ্যোগপতি, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং মতামত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এমন মহিলাদের নিয়ে আলোচনার আয়োজন করেছি।’
হাউনস্লোর ‘প্রবাসী’র পুজো এবার ১৫ বছরে পড়ল। স্থানীয় ‘হনিমুন’ ব্যাঙ্কোয়েট হলে ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর দুর্গাপুজোয় মেতে উঠবেন ‘প্রবাসী’র পুজোর সঙ্গে যুক্তরা। এই প্রসঙ্গে প্রবাসীর এক সদস্য বলেন, ‘আমরা এবার নতুন মূর্তিতে পুজো করছি। ভারতের বাইরে এটাই বৃহত্তম মূর্তি।’ তবে চন্দননগরের আলোকসজ্জার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাদ গিয়েছে। পুজো পরিক্রমা শুরু করেছে ‘ইন্ডিয়ান বেঙ্গলিস ইন দি ইউকে’ নামে এক সংস্থা। ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর সংস্থার পক্ষ থেকে বাসে করে লন্ডনের বিশেষ বিশেষ পুজো দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছে।
‘আন্তরিক—বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রমলি’র পুজো এবার ১১তম বছরে পড়ল। ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর চেলসফিল্ড ভিলেজ হলে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে তারা। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিড়েও নজর কাড়বে এই পুজো। এই প্যান্ডেলের অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলার নানান চিত্রশিল্প। বিখ্যাত শিল্পী যামিনী রায়ের অনুপ্রেরণায় তৈরি মোটিফের দেখা মিলবে এই মণ্ডপে।
কেন্টের চ্যাথামে পুজোর আয়োজন করেছে মেডিওয়ে ঐক্যতান কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (মোকা)। তাঁদের চতুর্থ বছরের থিম ‘হোয়ার পূজা ফিলস লাইক হোম।’ একটা ছোটো ঘরে এই পুজোর সূচনা হয়। এখন সেই পুজোই প্রবাসী বাঙালির ভাবাবেগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো কখনো পুরোহিত পাওয়া সমস্যা হয়। তখন প্রতিষ্ঠাতা অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়ই পুজোর দায়িত্ব নেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
পুজো আয়োজনে পিছিয়ে নেই সারে কাউন্টিও। হেরিয়ট রোডের চেরস্টি হলে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে ‘প্রয়াস ইউকে’। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর এখানে পুজোয় সকলকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পুজোর রীতিনীতির সঙ্গে এখানে হবে কুমারী পুজোও। শনিবার হবে সন্ধিপুজো।



