নয়াদিল্লি: বিদেশি শ্রমিকরা ‘চুক্তিভিত্তিক ভৃত্য’। তাদের বদলে মার্কিন শ্রমিকদের নিয়োগ করতে হবে তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। আমেরিকায় গ্রিন কার্ড নিয়ে কড়াকড়ির মধ্যেই ভান্সের এহেন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করল ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের পালটা তোপ, সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ কথা বলছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এই ইস্যুতে নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রতিভার আদান-প্রদানে দুই দেশের অর্থনীতিই লাভবান হয়। শুধুমাত্র ভারতীয়রা উপকৃত হয়, এমন ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়।
বিদেশ মন্ত্রক প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তুখোর প্রতিভা, উদ্ভাবন, গবেষণা, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ও কর্মসংস্থান থেকে লাভবান হয় মার্কিন সংস্থাগুলিও। এর ফলে আমেরিকাতেও সম্পদের বৃদ্ধি হয়। সামগ্রিকভাবে প্রচণ্ড লাভবান হয় দুই দেশই। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এই বিষয়টিকে মান্যতা দেবে ও তার প্রশংসা করবে। আমেরিকার ঘোষিত পদক্ষেপগুলি উভয় দেশের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে মোটেও সহায়ক নয়।’ ঘটনাচক্রে, আটটি তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফ্ট, টাটা, উইপ্রো, ইনফোস্সি, অ্যাডব, কগনিজেন্ট, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির বিরুদ্ধে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। ওয়াশিংটন তাদের পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন কর্মসূচি বা ‘পার্ম’ থেকে এই আটটি সংস্থাকে ছেঁটে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের সপক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাফাই, কাজের বাজারে বঞ্চিত হতে হচ্ছিল মার্কিন শ্রমিকদের।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য হল, এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি থেকে ‘পার্ম’ আলাদা। শুধুমাত্র এই কর্মসূচির অধীনে আবেদন স্থগিত করার ফলে বর্তমান এইচ-১বি ভিসার বৈধতা বা এইচ-১বি ভিসা প্রাপক এবং তাঁদের উপর নির্ভরশীলদের অবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থাগুলির যোগ্য কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার উপর এটি প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স অযৌক্তিক কথা বলছেন। আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়রা খুবই শিক্ষিত ও সুপ্রশিক্ষিত। মার্কিন অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে তাঁদের অসামান্য অবদান রয়েছে। আকর্ষণীয় তথ্য হল, ভান্সের মন্তব্যের পরেও ভারতে টেক জায়ান্টদের কাঁধে ভর করে সেনসেক্স ৮৭৯ পয়েন্ট বেড়েছে। নিফটিও বেড়েছে ২৮৮ পয়েন্ট।



