Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করতে হবে, বার্তা তসলিমা নাসরিনের

মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে তসলিমা নাসরিন কথা বলছেন ঠিকই। তার সঙ্গে লেখিকার কণ্ঠে বিজেপির বুনিয়াদি বিষয়গুলিকে সমর্থন করতেও শোনা গেল।

ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করতে হবে, বার্তা তসলিমা নাসরিনের
  • ৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে তসলিমা নাসরিন কথা বলছেন ঠিকই। তার সঙ্গে লেখিকার কণ্ঠে বিজেপির বুনিয়াদি বিষয়গুলিকে সমর্থন করতেও শোনা গেল। রবিবার বাংলা আকাদেমি সভাঘর থেকে তসলিমা বললেন, ‘সরকার নিজের থেকে ধর্ম প্রচার করুক এটা ঠিক নয়। সেকুলার দেশ হতে গেলে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করতে হবে। এটা সভ্যতার প্রথম শর্ত। সমস্ত সভ্য দেশে ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারবে না। এগুলি করলে সমাজ উন্নত হয়।’ এর সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে এবং মাদ্রাসার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। বিজেপির প্রতি বিশ্বাস রাখার প্রশ্নেও তিনি দরাজ।

Advertisement

সাংবাদিক সম্মেলনে তসলিমাকে বলতে শোনা গেল, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, এই সরকার মতপ্রকাশের অধিকার, বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’ তারপর আবার তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমার আসায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। অন্য যাদের ভিন্নমত আছে, তাঁরাও যেন একই ধরনের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারেন।’ এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সংখ্যালঘুদের অবস্থা এবং পুশব্যাকের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে,  তাঁকে নিশ্চুপ থাকতে দেখা যায়। রবীন্দ্র সদনে কবি জয় গোস্বামীকে ‘হেনস্তা’ প্রসঙ্গে তসলিমা বললেন, এই ঘটনায় তিনিও অপমানিত! আরও বলেন, ‘সকলকে কথা বলতে দিতে হবে। কথা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। যাঁরা আমার কথা পছন্দ করলেন, তাঁদের মধ্যেই কি কেউ ছিলেন যাঁরা জয় গোস্বামীকে মঞ্চে উঠতে দিলেন না? তাহলে তো দুরকমের হয়ে গেল!’ তিনি বলেন, ‘এখানে সকলে মতপ্রকাশের অধিকারে বিশ্বাস করেন বলে আমি বিশ্বাস করতে চাই। রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে। সকলের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে।’ কবি জয় গোস্বামীর বাড়িতে গিয়েও তিনি দেখা করবেন বলে ভেবেছেন। 
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে কথা বলেন তসলিমা। এটা তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াই বলে অভিহিত করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘সমানাধিকারের ভিত্তিতে অভিন্ন দেওয়ান বিধি দরকার।’ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেন তিনি। বেশিরভাগ মাদ্রাসা ও মসজিদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তসলিমা বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুরা অত্যচারিত আগেও হয়েছে। এখনো হচ্ছে। তবে ইউনুসের সময় বেশি হয়েছে। দরকার শিক্ষা। সরকার সবসময় ধর্মান্ধদের ভোটের জন্য আপস করে।’ তিনি বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। কলকাতায় থাকার প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, ‘আমি এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ কলকাতা বইমেলায় আগের মতোই যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ