Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুর চেয়ারম্যানের অফিসে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার ভাঙচুর, বাড়ি ঢুকে কাউন্সিলারকে মার

শুক্রবার বিকালে উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল।

পুর চেয়ারম্যানের অফিসে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার ভাঙচুর, বাড়ি ঢুকে কাউন্সিলারকে মার
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার বিকালে উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। উন্মত্ত জনতা ওই অফিসটি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর ছায়াসঙ্গী বাপ্পা সাহার বাড়িতে চড়াও হয় তারা। বিধানবাবুর ভেড়ি ব্যবসা দেখভাল করত এই বাপ্পা। গোটা বাড়ি লণ্ডভণ্ড করার পর তাকে কার্যত বিবস্ত্র করে বেদম মারধর করা হয়। ক্ষিপ্ত জনতাই ওই বাড়িতে মজুত করে রাখা সাদা থান পরিয়ে দেয় বাপ্পার স্ত্রীকে। গণপ্রহারের হাত থেকে রেহাই পাননি স্থানীয় কাউন্সিলার শংকর দাসও। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলারের বাড়িতে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় এই বাহিনী। মহিলারাও হামলার হাত থেকে রেহাই পাননি। খবর পেয়ে নিমতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এটা বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্ত। যদিও বিজেপির দাবি, উত্তর দমদমের ঘটনা স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ।

Advertisement

উত্তর দমদমের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরহাটি এলাকায় চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের ‘আল্পনা ফিশারি’ নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই অফিসে প্রচুর ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি রাখা ছিল। এগুলি সবই সরকারি ত্রাণসামগ্রী। এগুলি অফিস থেকে পুরসভায় স্থানান্তরের জন্য বিধানবাবু পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেইমতো এদিন পুরসভার তরফে ওই ত্রাণসামগ্রী সরানোর কাজ চলছিল। তা দেখে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। তারা জোর করে ওই অফিসে ঢুকে দেখেন, ভিতরে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। শুধু ত্রিপল, শাড়ি, কম্বল নয়, ছিল দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল, মদের গ্লাস, বাক্স ভরতি কন্ডোম সহ নানা সামগ্রী। ওই অফিসে মধুচক্র চলে বলে অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ বাহিনী আসে।
এ নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপির একদল কর্মী সোজা চলে যান বাপ্পা সাহার বাড়িতে। সেখানে গোটা ঘর লণ্ডভণ্ড করার পর বেধড়ক মারধর করা হয় বাপ্পাকে। সেই সময় গামছা খুলে যাওয়ায় বিবস্ত্র হয়ে পড়ে সে। ওই অবস্থায় ছুটে পালিয়ে যায় বিধান বিশ্বাসের ছায়াসঙ্গী। এদিকে, তার বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রচুর থান কাপড়। বিজেপি কর্মীদের দাবি, ভোটের পরে পাড়ার বিজেপি সমর্থকদের বাড়ির মহিলাদের থান দিয়ে আসবে বলেছিল বাপ্পা। এদিন মহিলারা একজোট হয়ে ওই থানই পরিয়ে দেন বাপ্পার স্ত্রীকে। 
এদিকে, পাশের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শংকর দাসের বাড়ির সামনে হাজির হয় ওই উন্মত্ত বাহিনী। জমি দখল, অত্যাচার সহ একাধিক অভিযোগে তার বাড়ি ভাঙচুর করে তারা। শংকর দাসকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর জামা-কাপড় ছিঁড়ে যায়। 
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা বলেন, ওইসব সামগ্রী প্রাক্তন বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দেওয়া। দলীয় কার্যালয়ে জায়গার অভাব থাকায় পার্টি থেকে দেওয়া ওই সামগ্রী চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা করেই বিজেপি এই হামলা চালিয়েছে। বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা কমিটির সদস্য নিতাইকুমার শীল বলেন, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী রাজ্যের সমস্ত পুরসভার চেয়ারম্যান ও পঞ্চায়েত প্রধানরা নিজেদের সম্পত্তি ভেবে বাড়ি ও অফিস থেকে বিলি করতেন। এদিন উত্তর দমদমের সাধারণ মানুষ বিপুল ত্রাণসামগ্রী দেখে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ দেখান। ওই কাউন্সিলার চরম অত্যাচার করতেন। ওখানেও জনরোষ হয়েছে বলে শুনেছি। বিজেপির কোনো কর্মী এই ঘটনায় যুক্ত নয়। বিজেপি কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা নাহলে আরও বড়ো ঘটনা ঘটতে পারত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ