Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মুমূর্ষু ছাড়া অন্য রোগীর আত্মীয়ের হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢোকা নিষিদ্ধ

মুমূর্ষু ছাড়া অন্য রোগীদের আত্মীয়রা হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকতে পারবেন না। সংকটজনক রোগীর সঙ্গে বাড়ির লোকজন থাকতে পারবেন।

মুমূর্ষু ছাড়া অন্য রোগীর আত্মীয়ের হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢোকা নিষিদ্ধ
  • ৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মুমূর্ষু ছাড়া অন্য রোগীদের আত্মীয়রা হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকতে পারবেন না। সংকটজনক রোগীর সঙ্গে বাড়ির লোকজন থাকতে পারবেন। তবে সেটা ঠিক করে দেবেন হাসপাতালের সুপার। হাসপাতালে মোবাইল নিয়ে ঢোকা, ছবি তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে গুটখা, তামাক কিংবা পান চিবানো হলে জরিমানা করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় এমনই পাঁচ দফার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন।

Advertisement

৩১জুলাই ও ১আগস্ট রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক হাসপাতাল ঘুরে দেখেছেন। এগরা, তমলুক, কাঁথি, ভগবানপুর সহ নানা জায়গায় হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা, পরিষেবার অভাব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। নিজেই ডায়েরিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ নোট নিয়েছেন। একাধিক জায়গায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীর কড়া ধমক খেয়েছে। তারপরই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। তবে এসমস্ত নিয়ম কতদিন বলবৎ থাকবে-তা সময়ই বলবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাসপাতালে গুটখা, তামাক সহ চিবিয়ে খাওয়া হয়, এমন কোনো জিনিস ব্যবহার করলে জরিমানা করা হবে। হাসপাতাল চত্বর নোংরা করা যাবে না। ভিড় এড়াতে ও সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে সাধারণ রোগীদের আত্মীয়রা ওয়ার্ডে যেতে পারবেন না। একমাত্র মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে এই ছাড় মিলবে। কোন কোন রোগীর সঙ্গে বাড়ির লোক থাকার অনুমতি পাবেন, সেটা সুপার ঠিক করে দেবেন। হাসপাতালের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান এবং ওয়ার্ড সিস্টারকে সাধারণ রোগীর আত্মীয়দের ঢোকা রুখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ভিতরে মোবাইল নিয়ে রোগী কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেতে পারবেন না। ওয়ার্ডের ভিতরে ফোটো তোলাও নিষিদ্ধ। তা অমান্য করে ছবি তুললে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যে রুমে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রয়েছে, সেটির দরজা সম্পূর্ণ খোলা থাকবে। আগুন নেভাতে রুটিনমাফিক মক ড্রিল হবে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলে পূর্ব মেদিনীপুরের সমস্ত বিএমওএইচ এবং প্রত্যেক হাসপাতালের সুপারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রত্যেক শয্যায় রোগীর সঙ্গে পরিবারের একজনকে থাকতে দেখেছেন। ভগবানপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ভিতর আবর্জনা, দেওয়ালে পানের পিক দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এগরা সুপার স্পেশালিটিতে বেহাল পরিষেবা ও পরিকাঠামো দেখে সুপার এবং দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে (নন-মেডিকেল) ভর্ৎসনা করেন। তাঁদের সরিয়ে হাসপাতালকে নতুনভাবে সাজানো হবে বলেও ঘোষণা করেছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার ছবিটা বেআব্রু করেছে। সেকারণেই পাঁচ দফার নির্দেশিকা জারি করেছেন সিএমওএইচ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ