Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

হেমারেজিক ডেঙ্গুর ছদ্মবেশে হানা দিচ্ছে নিরীহ ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়া, মুখ থেকে রক্ত, যুবকের প্রাণ বাঁচাল এম আর বাঙ্গুর

ডেঙ্গুর ছদ্মবেশে শহরে হানা দিল ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়া! তাও আবার হেমারেজিক ডেঙ্গুর ‘ছদ্মবেশে’। রোগীর মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল এমন অবস্থায়! এমন ‘অতিবিরল’ ঘটনা ঘটল টালিগঞ্জের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে।

হেমারেজিক ডেঙ্গুর ছদ্মবেশে হানা দিচ্ছে নিরীহ ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়া, মুখ থেকে রক্ত, যুবকের প্রাণ বাঁচাল এম আর বাঙ্গুর
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গুর ছদ্মবেশে শহরে হানা দিল ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়া! তাও আবার হেমারেজিক ডেঙ্গুর ‘ছদ্মবেশে’। রোগীর মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল এমন অবস্থায়! এমন ‘অতিবিরল’ ঘটনা ঘটল টালিগঞ্জের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। এখানকার সিসিইউ-এর চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের চিকিৎসায় প্রাণে বেঁচেছেন সেই রোগী, যিনি মাত্র ১৯ বছরের এক যুবক। 

Advertisement

ভাইভ্যাক্স এবং ফ্যালসিপেরাম বা ম্যালিগনেন্ট—এই দু’ধরনের ম্যালেরিয়ার মধ্যে ভাইভ্যাক্স এতদিন ধরে নিরীহ ম্যালেরিয়া বলে পরিচিত ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দিন যাচ্ছে, সেই পুরানো মিথ ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে। গত তিন মাসে শুধু বাঙ্গুরেই ছ’জন ভর্তি হয়েছেন ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁদের কয়েকজনের জীবন নিয়ে রীতিমতো টানাটানির পড়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এমনকি জটিলতা ছড়িয়েছিল মস্তিষ্কেও। আক্রান্ত এক মাঝবয়সি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। তাই ভাইভ্যাক্স মানেই নিরীহ, এই ধারনা থেকে বেরনোর সময় এসেছে। এক সিনিয়র ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এই ক’জনের মধ্যে আমাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে স্থানীয় প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাসিন্দা ১৯ বছরের এক যুবকের রোগলক্ষণ এবং জটিলতা। 
জুন মাসের ৯ তারিখে তিন-চারদিনের জ্বর এবং খিঁচুনি নিয়ে ওই রোগী আসেন। সঙ্গে মুখ থেকে রীতিমতো রক্তপাত হচ্ছিল। যাবতীয় উপসর্গ ছিল হেমারেজিক ডেঙ্গুর। কিন্তু পরীক্ষা করালে দেখা গেল, রোগী ডেঙ্গু নেগেটিভ, কিন্তু রক্তে রয়েছে ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইট। আনুষঙ্গিক রোগ পরীক্ষা করাতে গিয়ে আরও আশ্চর্য হয়ে যায় এখানকার সিসিইউ-এর টিম। দেখা যায়, পরীক্ষা রিপোর্টে অন্যান্য সূচক কমবেশি ঠিক আছে। লিভারের এনজাইমগুলি যৎসামান্য বেড়েছে। অ্যালবুমিন সামান্য কমেছে। কিন্তু ব্যাপক প্রভাব পড়েছে প্লেটলেটে। সেটিও ডেঙ্গুর লক্ষণের মতো মতোই উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। আপাদমস্তক ডেঙ্গুর ছদ্মবেশ ধারণ করে হানা দেওয়া এই আপাত নিরীহ ম্যালেরিয়া রোগীকে নিয়ে প্রথমে যথেষ্ট ধন্দে পড়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এমনকি  সাধারণভাবে ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়ায় রোগীকে কুইনাইন দেওয়া হয়। ম্যালিগনেন্ট ম্যালেরিয়ায় আর্টিসুনেট দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে জটিলতা দেখে সময় নষ্ট না করে শুরু থেকেই আর্টিসুনেট শুরু করে দেন চিকিৎসকরা। রোগীও প্রাণে বাঁচেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের জনস্বাস্থ্য শাখার এক পদস্থ কর্তা এপ্রসঙ্গে জানান, ডেঙ্গু বা করোনা নয়, এ বছর কিন্তু দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে ম্যালেরিয়া। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ বলেন, ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়ায় ব্লিডিং হতে পারে, তবে তা খুব কম ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহে এটি বিরল ঘটনা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ